হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী সব যাত্রীকে একইভাবে লাইন ধরে করোনা পরীক্ষা করতে হয়। বিমানবন্দরে প্রবেশ থেকে উড়োজাহাজে উঠা পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ বার লাইনে দাঁড়াতে হয়। কয়েকটি ফ্লাইট প্রায় কাছাকাছি সময়ে হলে যাত্রীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের। এমন পরিস্থিতিতে ভিআইপি বা বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কোনও কাউন্টার এখন পর্যন্ত নেই।
প্রাথমিক আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ ব্যক্তিদের আলাদাভাবে দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে র্যাপিড পিসিআর মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। এর জন্য ফি যাত্রীকেই বহন করতে হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কারা টেস্ট পরিচালনা করছে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার জন্য ৬টি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, স্টেমজ হেলথ কেয়ার (বিডি) লিমিটেড ঢাকা, সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার, এএমজেড হাসপাতাল লিমিটেড, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গুলশান ক্লিনিক লিমিটেড ও ডিএমএফআর মলিকুলার ল্যাব অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক। বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা করতে ১ হাজার ৬০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রবাসী কর্মীদের ফি দেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
আরও বুথ দরকার হতে পারে
ল্যাবগুলোর স্যাম্পল সংগ্রহ করার জন্য বিমানবন্দরে টার্মিনাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় ১০টি বুথ রয়েছে। স্যাম্পল কালেকশন শেষে পরীক্ষা করার জন্য টার্মিনাল ভবনের নিচতলায় ল্যাবে নেওয়া হয়। ছয়টি প্রতিষ্ঠানের দুটি করে মোট ১২টি আরটি পিসিআর মেশিন রয়েছে। একটি মেশিনে ৯৪টি স্যাম্পল একসঙ্গে পরীক্ষা করা যায়। পরীক্ষা করতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। বিমানবন্দরে এসে যাত্রীদের করোনা পরীক্ষাসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্য প্রায় ৭ ঘণ্টা সময় লাগে। এজন্য বিমানবন্দরে ৭-৮ ঘণ্টা আগে আসার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ পরিস্থিতিতে বিশেষ ব্যক্তিদের নিয়ে জটিলতা যেন তৈরি না হয়, সে কারণেই পরিকল্পনায় নতুন করে আসছে তাদের আলাদা করে বুথের ব্যবস্থা করার বিষয়টি। বিমানবন্দরে সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, আলাদা বুথ স্থাপনের জন্য আলাপ আলোচনা চলছে। এখনও কোন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। ল্যাবগুলোকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে।