বোন হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে ‘হয়রানির শিকার’

বোন হত্যার বিচার পেতে আইনি প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বিভিন্ন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাজধানীর ওয়ারী থানা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুস সাত্তার মিজী।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার বলেন, ২০২০ সালের ২৬ ডিসেম্বর আমার বোন ফাহিমা আক্তার (২৬) স্বামীর বাড়িতে মারা যান। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। আমরা তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারনা করি। তবে এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বোনের স্বামী শেখ মো. আল আকিব (৩০) ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমরা ওয়ারী থানায় হত্যা মামলা করতে গিয়েছিলাম। তবে পুলিশ মামলা নিতে অপারগতা জানায়। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নেয়। মামলার কিছুদিন পর পুলিশ আমাকে ফোন করে অর্থের বিনিময়ে মামলাটি তুলে নিতে বলে। আমি তাতে অস্বীকৃতি জানালে একজন আসামিকে বাদ দিয়েই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এমনকি ময়না তদন্ত প্রতিবেদনও আমাকে না জানিয়েই পুলিশ তুলে নেয়।

মামলার পর আদালতেও আইনি লড়াই করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন অভিযোগ করে আব্দুস সাত্তার বলেন, মামলা লড়তে আমি একজন আইনজীবী নিয়োগ করি। তাকে আত্মহত্যা প্ররোচনা নয়, মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে করার জন্য বলি। কিন্তু তিনি আসামিদের সঙ্গে আঁতাত করে মামলা করতে দেরী করেন। পরবর্তীতে আরেকজন আইনজীবীকে নিয়োগ করলে তিনি উল্টো আসামিদের জামিনে সহায়তা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আইনি প্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হওয়ায় তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি বোন হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহত ফাহিমা আক্তারের মা মেহেরুননেছা বেগম, বোন তাছলিমা বেগম।