যাত্রীবাহী নৌকা চলাচলের বিষয়ে কিছু জানে না ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ!

রাজধানীর গাবতলীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় ইঞ্জিনচালিত নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও দুইজন নিখোঁজ। যদিও ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক শেখ রবিউল ইসলামের দাবি, যাত্রীবাহী নৌকা চলাচলের বিষয়টি তাদের জানা নেই। এক্ষেত্রে নিজেদের গাফিলতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি। 

রবিবার (১০ অক্টোবর) গাবতলীর কয়লা ঘাট এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের এই কর্মকর্তা। যাত্রীবাহী নৌকা চলাচলে দেখভালের বিষয় নিয়ে জনবল স্বল্পতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। 

ঢাকা নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক বলেন, ‘ডিঙি নৌকা চলাচলের জন্য কোনও অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। তবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। এটি বিশেষভাবে ঘটে গেছে। এসব নৌকা চলার কথা না।’

শনিবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৫টার পর মাঝনদীতে বাল্কহেডের ধাক্কায় নৌকাটি তলিয়ে যায়। ডুবে যাওয়ার সময় নৌকার কয়েকজন যাত্রী সাঁতার দিয়ে তীরে আসতে পেরেছেন। শনিবার বিকাল ৩টার দিকে নৌকাটি উদ্ধার করে ক্রেন দিয়ে কয়লার ঘাটে নিয়ে আসে ফায়ার সার্ভিস।

নৌকাডুবির ঘটনায় নদী থেকে পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল। তাদের মধ্যে চার শিশু ও একজন নারী। তারা হলো- শিউলি আক্তার (২৭), রূপন (৪) ও আরমান (৩)। লাশ উদ্ধার হওয়া আরও দুই শিশুর পরিচয় এবং নৌকায় কতজন যাত্রী ছিল তা জানা যায়নি।

নৌ-পুলিশের পরিদর্শক আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও আশেপাশের দুই-তিন কিলোমিটার এলাকা সার্চ করা হবে।

ইঞ্জিনচালিত নৌকাটিকে ধাক্কা দেওয়া বাল্কহেড এখনও শনাক্ত করতে পারেনি নৌ-পুলিশ। সব বিষয় পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হবে।