সার্চ কমিটি নিয়ে বিতর্ক না করে সহায়তার আহ্বান মনিটরিং ফোরামের

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে বিতর্ক না করে বরং রাষ্ট্রপতি ও সার্চ কমিটিকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম। নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর ভূমিকায় দেখতে চাইলে তাদের সহায়তা করা সরকারি দল ও সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব বলে সংগঠনটি জানায়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের কমিশনারদের নিয়োগ ও সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়ে ৫টি প্রস্তাব দেয় ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম।

শনিবার (৬ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম আয়োজিত “নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন, সার্চ কমিটির ভূমিকা ও নাগরিক প্রত্যাশা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সংগঠনটি থেকে এ কথা জানানো হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন যত বেশি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী হবে ততবেশি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। নির্বাচনকালে রাষ্ট্রের সব নির্বাহী প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীন থাকে। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেমন একটি দক্ষ শক্তিশালী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দরকার, তেমনি নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম বেগবান ও গতিশীল করার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, নির্বাচন কমিশনার ও প্রশাসনের ভেতরে একটি মেলবন্ধন থাকতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কিছু মানুষ ভিন্নমত পোষণ করবেন, এটাই হলো সমাজের সৌন্দর্য। সংবিধানে নির্বাচন সম্পর্কে স্পষ্ট বলা আছে। এখন আমাদের রাষ্ট্রপতি ও সংবিধানের ওপর আস্থা রাখা উচিত।

এ সময় সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন সভাপতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যতম গভর্নর বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া বলেন, আমাদের একটা বিষয় চিন্তা করতে হবে, কে এই সার্চ কমিটি নির্বাচন করবে। আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে দায়িত্ব দেবেন এই সার্চ কমিটি গঠনের। প্রধান বিচারপতি কখনও অন্যায় করতে পারেন না। এবং তিনি যে সার্চ কমিটি নির্ধারণ করবেন তা রাষ্ট্রপতি অনুমতি দেবেন। এবং সেই সার্চ কমিটি একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। এর চেয়ে স্বচ্ছ বিষয় আর কি হতে পারে। একে বিতর্কিত করার কোনও সুযোগ নেই।

সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান একটি গতিশীল সংবিধান। সংবিধান নিয়ে যারা প্রশ্ন করে, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই।

বৈঠক শেষে আগামী নির্বাচন কমিশনের কমিশনারদের নিয়োগ কীভাবে হবে এবং সার্চ কমিটি কাদের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে সে বিষয়ে ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম ৫টি প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবগুলো হলো, সার্চ কমিটি ৫ সদস্য থেকে ৯ সদস্যবিশিষ্ট হওয়া। নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটিতে সাবেক জ্যেষ্ঠতম প্রধান বিচারপতি, সাবেক সফল নির্বাচন কমিশনার, ধর্মীয় গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া দরকার। সার্চ কমিটির প্রতিনিধির বিষয়ে কমিটি গঠন পূর্বে অধিকতর তদন্ত করা। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপকালে সার্চ কমিটির প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সার্চ কমিটি কর্তৃক প্রস্তাবিত তালিকা থেকে রাষ্ট্রপতি সর্বাধিক অনুসন্ধান রিপোর্ট সমন্বয় করে সৎ, গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ, বিচক্ষণ, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও পূর্বের কর্মকাণ্ড সর্বাধিক বিশ্লেষণ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেবেন।