বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় দোষারোপের রাজনীতি করে চলছে এবং এর মধ্য দিয়ে তারা প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে তা চলছে।
শনিবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনগুলোতে আমাদের দেশের কোনও রাজনৈতিক দল ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্বিচারে সাম্প্রদায়িক হামলা হচ্ছে, তা কখনোই স্বীকার করতে চাননি। অনেকেই এই ঘটনাগুলোকে অতীতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এবারই দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে দোষারোপের রাজনীতি করে চলছে এবং এর মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছে সাম্প্রদায়িক হামলা অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণে তা চলছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বিষয়ে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। আমরা সব ক'টির নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত চাই। দলমত নির্বিশেষে যারা-ই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। হাজার হাজার মানুষ গ্রেফতার করলেই সুবিচার আসে না। নিরপরাধ কেউ যেন গ্রেফতার ও হয়রানির শিকার না হয়, এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত ২ নভেম্বর তাঁর ভার্চুয়াল ভাষণে সত্য কথা তুলে ধরার জন্যে আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা মনে করি, ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের রক্ষায় শুধু কথা-ই নয় কাজের মধ্য দিয়ে তা দৃশ্যমান করা আজ যথার্থ অর্থেই প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি সারা দেশে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিবাদে আগামী ১২ নভেম্বর বিকাল ৪টায় সারা দেশে ধিক্কার মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি উষাতন তালুকদার, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক প্রমুখ।