জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের মানববন্ধন

জ্বালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমানোর দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি গ্যাসের বর্ধিত মূল্য নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ আগের থেকে আরও বাড়াবে বলে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন।

রবিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গত দুই বছর যাবত মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষ। বহুসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছে। এরই মধ্যে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি শ্রমিক কর্মচারীদের জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি 'মরার উপর খাঁড়ার ঘা' হিসেবে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষকে আরও দুর্বিসহ অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, করোনাকালে কর্মহীন হয়ে পড়া অধিকাংশ শ্রমিক এখনও চাকুরিতে ফিরতে না পেরে পরিবার-পরিজনসহ মানবেতর জীবনযাপন করছে। একদিকে শ্রমজীবী মানুষের উপার্জন কমে গেছে, অন্যদিকে হঠাৎ করে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধির ফলে তাদের জীবনযাপনের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে। ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে ইতোমধ্যে বাস ও লঞ্চ মালিকরা তাদের বাস-লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

এসময় রেশনের মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে সস্তায় ও নির্ধারিত মূল্যে সরবরাহের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ডিজেল ও কেরাসিনের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানায় বক্তারা। সংগঠনটি একইসঙ্গে জুতা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ৫ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের গ্রেফতার ও নিহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও জানিয়েছে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক সাহিদা পারভীন শিখা, প্রচার সম্পাদক মোবারক হোসেন, মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলীসহ অন্যান্যরা।