শতবছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে পুরান ঢাকার ফুটপাতের ‘পথমেলা’। কালীপূজা উপলক্ষ্যে প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী পুরান ঢাকার নবাবপুর-রথখোলা-টিপু সুলতান সড়কের দুইপাশে শিশুদের খেলনাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় হরেকরকমের তৈজসপত্রের পসরা বসে। এবছরও গত শুক্রবার (৫ নভেম্বর) শুরু হয়েছে এই মেলা।
ব্যাপ্তি যদিও কম হলেও মেলার ইতিহাস সুপ্রাচীন। স্থানীয়রা বলছেন, এই মেলার গোড়াপত্তন হয়েছে মোঘল শাসনামলেই। পুরান ঢাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয় এই পথমেলা প্রতিদিন দুপুর থেকে শুরু হয়, চলে রাত অবধি। হাজারও মানুষের সমাগম ঘটে এই পথমেলায়।
শিশুদের খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন মো. হেলাল উদ্দিন (৬২) নামে এক দোকানদার। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এই মেলায় অংশ নিচ্ছি। যুগ যুগ ধরেই রাস্তার পাশে এই মেলার আয়োজনা করা হয় বলেই জেনে আসছি, তবে এর নির্দিষ্ট কোনও নাম নেই। কেউ একে ‘কালীপূজার মেলা’ বলে আবার কেউ কেউ বলে ‘পথমেলা’। সাধারণত তিনদিন থাকে এই মেলা। কিন্তু বেচাকেনা ভালো হলে আরও দুয়েকদিন সময় বাড়ানো হয়।
মায়ের সাথে পথমেলা দেখতে আসা আট বছর বয়সী শিশু আফিয়া। সে বলে, মেলায় এসে আমার অনেক ভালো লাগছে। আমি অনেক খেলনা কিনেছি। মাটির পুতুলও কিনেছি। আমার ভাইয়ের জন্য একটা খেলনা বন্দুক নিয়েছি।
আফিয়ার মা নারগিস আক্তার বলেন, গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে বাচ্চাদের নিয়ে মেলায় আসতে পারিনি। প্রতিবছর এই সময়টায় রাস্তার দুই ধারে মেলা বসে। বাচ্চাদের খেলনার পাশাপাশি পরিবারের জন্যে প্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রী এখানে পাওয়া যায়। বাচ্চারা এখানে আসতে অনেক আগ্রহী। তাই তো গতকাল ও মেলায় এসেছি আজকেও এসেছি।
চুড়ি, হাড়ি-পাতিল, মাটির ও প্লাস্টিকের তৈরি পুতুল, কসমেটিকসসহ হরেকরকমের খেলনা পাওয়া যায় এই পথমেলায়। এসবকিছুর পাশাপাশি নানান রকমের পিঠাও পাওয়া যায় ঐতিহ্যবাহী এই পথমেলায়। রাস্তার যানজটের কারণে ও পূর্ব নিয়মানুযায়ী গত রবিবারই মেলা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ক্রেতাদের পর্যাপ্ত সমাগম থাকায় আজ মঙ্গলবারও এই মেলা বসছে।