সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, মন্ত্রী বললেন ঘুম থেকে উঠে দেখেন আয় বেড়ে গেছে। কিন্তু আমাদের শ্রমিকরা ঘুম থেকে উঠে দেখে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।
বুধবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে তাজরীন অগ্নিকাণ্ডে নিহতসহ অন্যান্য কল-কারখানায় নিহত শ্রমিকদের স্মরণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
"তাজরীন অগ্নিকাণ্ডের ৯ বছর: শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি নিশ্চিতে করণীয়” শীর্ষক সভাটি আয়োজিত হয় ব্লাস্ট, সেইফ অ্যান্ড রাইটস এবং ব্লিস’র যৌথ উদ্যোগে।
এসময় বক্তারা শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি এবং আগামীতে নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিতে করণীয়সহ শ্রমিক অধিকার এবং কল্যাণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এসআরএস নির্বাহী পরিচালক মো. সেকেন্দার আলী মিনা।
সভায় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, মন্ত্রী বললেন ঘুম থেকে উঠে দেখেন আয় বেড়ে গেছে। কিন্তু আমাদের শ্রমিকরা ঘুম থেকে উঠে দেখে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। আমাদের আয় বেড়ে হচ্ছে বছরে ২ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা, আর একটা শ্রমিক মারা গেলে তার ক্ষতিপূরণ ২ লাখ টাকা। এর চেয়ে বড় উপহাস আর কি থাকতে পারে।
শ্রমিকদের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আজীবন আয়ের অর্থ ক্ষতিপূরণ দাবি করে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ও বিলস’র যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, এটা দুঃখজনক আমাদের মালিকেরা নীতিমালা মানতে চান না, অথবা সরকার তার দায়িত্ব কতটুকু পালন করে তা আমি নিশ্চিত না। ২০ বছর আগের ক্ষতিপূরণের অংক এখন আর মানায় না। আর্থিক ক্ষতিপূরণের সঙ্গে মালিকদের শাস্তি বিধান রাখতে হবে।
ব্লাস্ট’র উপ-পরিচালক মো. বরকত আলির সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের আহবায়ক ড. হামিদা হোসেন, শ্রম আদালতের আইনজীবী মো. সেলিম আহসান খান, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের প্রতিনিধি ড. এম এম মোল্লা প্রমুখ।