বাংলাদেশে ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ৪৭ লাখ শিশুশ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে ১২ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। গ্রামাঞ্চলে শতকরা ৮৩ ভাগ আর শহরে ১৭ ভাগ শিশু নানা ধরনের কাজ করে। দেশে শিশুশ্রম বিলোপে সাত দফা সুপারিশ তুলে ধরে 'আইটিইউসি-বাংলাদেশ কাউন্সিল ও লেবার রাইটস সাংবাদিক ফোরাম' আয়োজিত সভায় বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।
শনিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে `কর্মক্ষেত্রে শিশুশ্রম নিরসনে ট্রেড ইউনিয়ন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা' শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আইটিইউসি-বিসি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভার মূল প্রতিপাদ্য উপস্থাপন করেন সাকিল আখতার চৌধুরী।
মূল প্রতিপাদ্যে বলা হয়—সরকারি হিসাব মতে, দেশে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১৩ লাখ এবং যার মধ্যে ১৪ বছর পর্যন্ত শিশুর সংখ্যা ৫ কোটি ২৩ লাখ অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ। শিশুরা স্বাভাবিক নিয়মে বেড়ে উঠবে এটি তাদের অধিকার। শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। শিশু অধিকার সুরক্ষায় দেশে আইন রয়েছে। কিন্তু আইন বাস্তবায়নে নানা দুর্বলতার কারণে শিশুরা যথেষ্ট সুরক্ষিত নয়। প্রতিটি শিশুর জন্য মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করা না গেলে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অসম্ভব।
এসময় শিশুশ্রম বিলোপে সাত দফা করণীয় তুলে ধরা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—সকল শিশুর জন্য শিক্ষার অবারিত সুযোগ তৈরি করা; দারিদ্র্য দূরীকরণে সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া; শিশুশ্রম নিরোধে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালানো; আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা; শিশু পাচারে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেওয়া; সরকার, মালিক পক্ষ, ট্রেড ইউনিয়ন, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া; এবং অবিলম্বে আইএলও কনভেনশন-১৩৮ অনুসমর্থন করা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন—বাংলাদেশে ৫ হতে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ৪৭ লাখ শিশুশ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে ১২ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। গ্রামাঞ্চলে শতকরা ৮৩ ভাগ আর শহরে ১৭ ভাগ শিশু নানা ধরনের কাজ করে। কৃষি, মৎস্য, গৃহস্থালি, পরিবহণ, নির্মাণ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রমের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। শিশু অধিকার তো দূরের কথা, শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক মানবাধিকার হতেও তারা বঞ্চিত। কর্মস্থলে নির্যাতনের বিষয়টিও আজকাল হরহামেশা দেখা যায়। এক্ষেত্রে কন্যাশিশু ও তরুণীরা অধিকতর বঞ্চনার শিকার। কোভিড-১৯ এর পরিণতি শিশুশ্রমের চিত্রটিকে আরও ভয়াবহ করেছে।
কর্মক্ষেত্রকে শিশুশ্রম মুক্ত রাখতে মালিক পক্ষের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তারা কোনোভাবেই এ দায় এড়াতে পারেন না। তাই সরকার, মালিক, শ্রমিক সকলকেই শিশুশ্রম নিরসনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বক্তারা।
সভায় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, লেবার রাইটস সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আব্দুল হান্নান, সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ বাদল, সাংবাদিক আতাউর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।