নগর দারিদ্র হ্রাসে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াস জরুরি

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে রাজধানী ঢাকায় আগত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ দরিদ্র বসতিতে দারিদ্রের দুষ্টুচক্রে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার সহায়তায় তাদের জীবনমান উন্নয়নে নানামুখী কর্ম-তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে সরকার। এর সুফল পেতে হলে নগর দারিদ্র কমিয়ে আনতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াস জরুরি। 

সোমবার (২৯ মার্চ) দুপুর ৩টায় ডিএনসিসি মিলনায়তনে ‘টেকসই আগামীর জন্য জলবায়ু অভিযোজনে নারী-পুরুষের সমতা জরুরি’ শ্লোগানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

s 2

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, এই শহরে ধনী-দরিদ্র একে অপরের উপর নির্ভরশীল। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেছে। অর্থাৎ আগামী ২০৩০ পর্যন্ত সব ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কেউ যেনও বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতিসংঘের আওতাভুক্ত দেশগুলো কাজ করে যাচ্ছে। আগের তুলনায় দরিদ্র বসতিতে কিছু কিছু নাগরিক সেবা যেমন পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। যা নগরের দারিদ্র কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন’ প্রকল্পের অপারেশন্স কো-অর্ডিনেটর শাহীন পারভীন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এফসিডিও এবং ইউএনডিপির সহায়তায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্র বসতিতে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর টেকসই জীবন-জীবিকা ও তাদের জীবনমানের উন্নয়নে নারী শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান, ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসির নারী ও শিশু বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাছিনা বারী চৌধুরী বলেন, নগরে দরিদ্র বসতিতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে হবে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। এই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কৌশল প্রণয়নের মাধ্যমে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন করা গেলেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, নগরে অবস্থিত দরিদ্র বসতিতে সচেতনতার অভাব এবং অর্থিক সঙ্কটের কারণে বাল্য-বিবাহ, নারী নির্যাতন, শিক্ষা সুবিধা না পাওয়া, পুষ্টিকর খাবারের অভাব ছাড়াও নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ সংঘটিত হতে দেখা যায়। এজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নগর দরিদ্রদের মাঝে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিশেষ করে পোশাক শিল্পের মাধ্যমে দরিদ্র বসতিতে বসবাসরত নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদেরকে কারিগরি শিক্ষা এবং পুষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা গেলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে। সরকার এবং সকল অংশীজন বিশেষ করে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসই এই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করতে পারে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন” প্রকল্প-ডিএনসিসির সদস্য সচিব মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান আলোচনা সমাপনী অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন। সভা সঞ্চালনা এবং প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন প্রকল্পের ডিএনসিসির টাউন ম্যানেজার মো. মারুফ হোসেন। 

এছারাও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মাকসুদ হাসেম। এছাড়া নারীর অগ্রগতিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য “বহ্নিশিখা” কে স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়। সবশেষে দরিদ্র বসতির শিশু-কিশোরীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করা হয়।