‘চামড়া নিতে কেউ এলো না’

কলাবাগানের বাসিন্দা শাহনেওয়াজ বাসা থেকে বেরিয়ে প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি কোরবানির পশুর চামড়া দেওয়ার লোক খুঁজছিলেন কিন্তু পাচ্ছিলেন না। রাস্তায় তার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা অপর ব্যক্তিকে বললেন ‘চামড়া নিতে কেউ আসলো না। অন্যান্য বার তো বাসায় এসে চামড়ার খোঁজ করে’। পাশ থেকেই আরেকজন বললেন ‘চামড়ার দাম নাই, তাই মনে হয় আসে না’।  তিনি অনেকটা হতাশ হয়েই বাসার দিকে আবার ফেরত গেলেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির পশুর চামড়া নিতে একসময় অনেক ব্যবসায়ীরা রীতিমত প্রতিযোগিতা করলেও এখন তা অনেক কমে এসেছে। চামড়ার ব্যবসায় লোকসানের পরিমাণ গুণতে গুণতে অনেকেই সরে এসেছেন। কেউ কেউ শুধু নাম ধরে রাখার জন্য কোরবানির ঈদ এলে সেই ব্যবসায় যুক্ত থাকেন। তবে মৌসুমি ব্যবসায়ী বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই এখন সীমিত আকারে চামড়ার ব্যবসা করেন।

পান্থপথের বাসিন্দা রোকন উদ্দিন জানান, কোরবানির পশুর চামড়ার জন্য এক সময় দেখতাম কয়েক দল আসতো। দামাদামি করে চামড়া বুকিং দিয়ে যেত। এখন তেমন হয় না। এখন তাদের খুঁজে বেড়ানো লাগে। প্রধান সড়কে চামড়ার স্তূপ দেখলে ধারণা করা যায় ওখানে চামড়া সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেখানে দিয়ে আসতে হয়। আর দামের কথা নাই বললাম। ৭০-৮০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়ার দাম৭০০- ৮০০ টাকাও পাওয়া যায় না। তাই অনেকেই দান করে দেয়। আর খাসির চামড়ার তো কোনও দামই নেই।

সরকার এবার কোরবানি দেওয়া ব্যক্তিদের নিজ উদ্যোগে চামড়ায় লবণ দিয়ে রাখার আহ্বান জানালেও তা পালনে অনীহা দেখা গেছে। রাজধানীর কয়েকটা পয়েন্টে চামড়ার স্তূপ দেখা গেলেও কোনও চামড়ায় লবণের ব্যবহার দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন- লবণ ট্যানারিতে দেওয়া হবে। আমরা দেবো না।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, চামড়া জাতীয় সম্পদ। এটাকে রক্ষায় কোরবানি দাতাকেই এগিয়ে আসতে হবে। তারা নিজ ব্যবস্থাপনায় চামড়ায় লবণ মেখে রাখবেন।

তবে কোরবানি দাতারা বলছেন, চামড়ার দাম ৪০০-৫০০ টাকা হলে ২০০-৩০০ টাকার লবণ কিভাবে দেবো!

ধানমন্ডির রাসেল স্কয়ার এলাকায় চামড়া ব্যবসায়ী প্রসূন চন্দ্রের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি ২০ বছর ধরে এই ব্যবসায় জড়িত। তিনি বলেন, ‘আজকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা দিয়ে একটা চামড়া কিনসি। এছাড়া যা চামড়া আছে কোনটা ৩০০, ৪০০, ৫০০, ৬০০ টাকা দিয়ে কেনা। এগুলা ট্যানারিতে বিক্রি করলে হয়তো চামড়া প্রতি ১৫০-২০০ টাকা লাভ থাকতে পারে।’

এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৪৭ থেকে ৫২ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০-৪৪ টাকা। খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ১২-১৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও খাসির চামড়ার ট্যানারি মালিকরা নেয় না দেখে খুচরা ব্যবসায়ীরাও আগ্রহ দেখায় না।

প্রসূন চন্দ্র জানান, ট্যানারি খাসির চামড়া নেয় না। নিলেও ৫০ টাকার বেশি দেয় না। তাই আমরাও এত আগ্রহ দেখাই না।