ফুটপাতে ‘পুলিশ বক্স’, ভেঙে দিলো ডিএনসিসি

সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই ফুটপাতে তৈরি করা ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের দুটি পুলিশ বক্স ভেঙে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃপক্ষ। রাজধনীর কলেজ গেট এলাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে ছিল পুলিশ বক্স দুটি। শবিনার (২৩ জুলাই) ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশে সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন কলেজ গেট ট্রাফিক পুলিশের একটি পুরনো পুলিশ বক্স ছিল। এর পাশেই কংক্রিটের পিলার স্থাপন করে ইটের দেওয়াল গেঁথে আরেকটি স্থায়ী পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযানের সময় দুটি পুলিশ বক্সই ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুরো অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

অভিযান শুরুর আগে পুরনো পুলিশ বক্সের ভেতর থেকে চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাব সরিয়ে নেন দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। পুলিশ বক্স ভাঙার বিষয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে কেউ রাজি হননি।

পুলিশ বক্স ভাঙার বিষয়ে মেয়র আতিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেখে খুবই আশ্চর্য হয়েছি, খারাপও লেগেছে। ১৮ ফুট চওড়া ফুটপাতটিকে কীভাবে স্থায়ী পুলিশ বক্স করা হয়েছে?’

তিনি বলেন, ‘পিলার ও দেয়াল দিয়ে ফুটপাত পুরো দখল করে পুলিশ বক্স হবে, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত। অবশ্যই পুলিশের জন্য জায়গা লাগবে। তবে আলোচনার মাধ্যমে কাজগুলো করা যায়।’

মেয়র আরও বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষার্থীরা ফুটপাত দিয়ে চলাচল করে। বিশেষ করে হাসপাতালের অনেক রোগী হুইল চেয়ারে করে যায়। এসব বিষয় চিন্তা করে এই এলাকায় ফুটপাত চওড়া করে বানানো হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে এখানে একটি স্থায়ী পুলিশ বক্স বানানো হয়েছিল।’

পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আসুন, আলোচনা করুন। দরকার হলে আমরা সরকারকে বলবো, পুলিশ বক্সের জন্য জায়গা দিতে। কিন্তু এভাবে পুরো ফুটপাত দখল করে পুলিশ বক্স করা হবে, এটি কাম্য নয়। জনগণকে যাতে দুর্ভোগ না পোহাতে হয় এ ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে।’ সিটি করপোরেশনের জায়গায় কোনও স্থাপনা করতে চাইলে, সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই করতে হবে বলেও জানান তিনি।