দুষ্টের দমনে শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ  ধারণের আহ্বানে শোভাযাত্রা

দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে শ্রীকৃষ্ণের আদর্শকে ধারণের আহ্বানে জন্মাষ্টমীর কেন্দ্রীয় আয়োজনের অংশ হিসেবে শোভাযাত্রা করেছেন মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি। শুক্রবার (১৯ শেষ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টায় জন্মাষ্টমীর কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা বের হয়। পলাশী থেকে শুরু হয়ে শহীদ মিনারসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঢাকেশ্বরী কেন্দ্রীয় মন্দিরে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়। 

শোভাযাত্রার আগে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের (এমপি)। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দুর্গাপূজা ও জন্মাষ্টমীর মতো অনুষ্ঠান আপনারা পালন করছেন। কেউ আপনাদের বাধা দেয়নি। যারা হিন্দুদের মন্দিরে ও বাড়িতে হামলা করে তারা কোনও দলের নয় তারা হচ্ছে দুর্বৃত্ত। ওই দুর্বৃত্তরা আপনাদেরও শত্রু, মুসলমান-খ্রিস্টানসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদেরও শত্রু। 

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিএনপি একটি সাম্প্রদায়িক দল। ২০০১ সালের কথা আপনাদের মনে আছে। বিএনপি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অত্যাচার, গুম, খুন ও নির্যাতন করেছে।’

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ছোট শিশুরা শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার সাজে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রায় উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীসহ দূর দূরান্ত থেকে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেন। এছাড়া ঢাকা কলেজ পশ্চিম হল, কবি নজরুল কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সদস্যরা এতে অংশ নেন।  এ সময় ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন মন্দিরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ , কৃষ্ণপূজা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

শোভযাত্রায় অংশগ্রহণকারী সুজন ঘোষ বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমারা দেখেছি জন্মাষ্টমীর সময় আমাদের পরিবারে দিদা, বাবু, পিসিরা উপবাস করতে। জন্মাষ্টমী এলে পাড়ার প্রতিটি ঘরে উপবাস থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা ও পূজা, গীতাযজ্ঞ, জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা, কৃষ্ণপূজা, পদাবলি কীর্তন করা হয়। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেছিলেন।