বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে কোনও পার্থক্য দেখি না: শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, স্বাধীনতার চেতনার বিষয়ে বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে কোনও পার্থক্য দেখি না। আজ যারা বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছেন, পারিবারিক ইতিহাস খুঁজে দেখেন– তাদের সবার শরীরে রয়েছে রাজাকারের রক্ত।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ (মুসপ)’ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, একদিনের ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। এ জন্য (মুক্তিযুদ্ধের) ছিল ২৫ বছরের দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রাম। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে যে হত্যা করা হয়েছে সেটি কিন্তু ব্যক্তি মুজিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে নয়। তাঁর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে, বাঙ্গালির মুক্তির চেতনা রচনা হয়েছে। তাই যারা স্বাধীনতা মেনে নিতে চাননি, তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে একটি চেতনা হত্যা করেছেন। যার নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান।’

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান মোটেও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। ৯ মাসে তিনি পশ্চিম বাংলায় গিয়েছিলেন তাদের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করার জন্য। তিনি পাকিস্তানে বড় হয়েছেন। বাংলাও ভালো বলতে পারতেন না। বর্তমানে অনেক তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সিআইএ’র প্রতিবেদনে এটা উঠে এসেছে– তিনি ৯ মাসে পশ্চিম বাংলায় পাকিস্তানি গুপ্তচর হিসেবেই কাজ করেছেন। তিনি যদি সত্যি মুক্তিযুদ্ধে পক্ষে লড়তেন তাহলে দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র তিন বছর পর ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে পাল্টাতে পারতেন না।’    তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে একাত্তরের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজেদা শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল প্রমুখ।