শিক্ষাকে চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি রাখলে শিশু পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে পারে না। শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের প্রতিভা ও মেধা-মননের বিকাশে অভিভাবকরা ভিড় জমান বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে। প্রতি শুক্রবার সকাল থেকেই শিশুদের নাচ, গান, আবৃত্তি, বাদ্যযন্ত্র শেখা ও ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে মুখর হয়ে থাকে একাডেমি প্রাঙ্গণ। এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার ও শনিবার শিশুদের ক্লাস চলে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিতে।
শিশু একাডেমিতে আসা অভিভাবকরা জানান, প্রত্যেক শিশুর মাঝেই কিছু সুপ্ত প্রতিভা থাকে। অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব সেই প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করা। তা ছাড়া সৃজনশীল কাজে শিশুরা ব্যস্ত থাকলে অসৎ সঙ্গ, মাদক কিংবা সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকবে বলে মনে করেন অভিভাবকরা।
রাজধানীর কলেজ গেট থেকে মেয়ে নূপুরকে নিয়ে আসা অভিভাবক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আমার মেয়ের আগ্রহ ছিল। আমার স্ত্রীও ভালো গান গায়। মেয়ে আর মেয়ের মায়ের আগ্রহেই শিশু একাডেমিতে মেয়েকে ভর্তি করানো।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুই নিজস্ব কিছু প্রতিভা নিয়ে জন্মায়। আমাদের বাবা-মা হিসেবে উচিত সেই প্রতিভার মূল্যায়ন করা।’
আরেক অভিভাবক রত্না আক্তার বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তানরা সুষ্ঠু পরিবেশে বেড়ে উঠুক। এ জন্য তাকে ওই রকম একটা পরিবেশ আমাদেরই তৈরি করে দিতে হবে। এ জন্যই মূলত আমার ছেলেকে এখানে নিয়ে আসা। আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই ভালো ছবি আঁকে। স্কুলেও বেশ কয়েটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জয়ী হয়েছে।’
একই বক্তব্য শিশু একাডেমির প্রাঙ্গণে অপেক্ষারত অভিভাবকদের। তবে প্রতিভার মূল্যায়নে পাশাপাশি কোনও কোনও অভিভাবক তার প্রিয় সন্তানকে নিয়ে এসেছেন নিজের মাঝে লালন করা অপূর্ণ স্বপ্নকে সন্তানের মাঝে দেখার জন্য। তাদেরই একজন মগবাজার এলাকার বাসিন্দা ইমরান উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আমরা সুফিবাদে বিশ্বাসী। আমাদের বাসায় প্রতিবছরই সামামা (কাওয়ালি) মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তাই ছোটবেলা থেকে চাইতাম তবলা বাজাবো। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতায় সেটা আর করে উঠতে পারিনি। অন্য পেশায় চলে যেতে হলো। তাই আমার ছেলেকে আগ্রহ নিয়ে শেখাচ্ছি।’
শুধু শিশু একাডেমিতেই নয়, তবলা বাজানো শেখানোর জন্য তিনি ছেলে মিহিরান উদ্দিনকে সপ্তাহে একদিন নারায়ণগঞ্জে প্রাইভেট তবলা শিক্ষকের কাছে নিয়ে যান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনও কিছু শিখতে হলে লেগে থাকতে হবে। আমি চাই আমার ছেলে ভালো তবলচি (তবলাবাদক) হোক।’
শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শিশু একাডেমি ঘুরে দেখা যায়, একাডেমির বিভিন্ন ভবনে চলছে সংগীত, অংকন, নৃত্য, গিটার-তবলা বাজানোসহ আবৃত্তি ও উপস্থাপনার ক্লাস। একাডেমি থেকে জানানো হয়, বিষয়ভেদে এক থেকে চার বছর মেয়াদে এসব কোর্স সম্পন্ন করা হয়।
সপ্তাহে তিন দিন বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার সকাল-বিকাল শিশুদের এই বিষয়গুলো শেখানো হয়। শিশুদের ভর্তির বিষয়ে শিশু একাডেমির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে বিস্তারিত দেওয়া রয়েছে।