খরচ বাড়ায় দুপুরে খাওয়ার আগ্রহ কমছে শ্রমজীবী মানুষের

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। প্রতি বছরই এই দিবসের মূল প্রতিপাদ্য থাকে সকলের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা। তবে খরচ বৃদ্ধি ও কর্মব্যস্ততার কারণে দুপুরের খাবার খাওয়ার আগ্রহ কমছে শ্রমজীবী মানুষের। রবিবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে শ্রমজীবী মানুষেরে সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

মিরপুরের রিকশাচালক রুহুল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার মেসে প্রত্যেকদিন তিন বেলা খাওনের খরচ ১৪০ টাকা। আবার রিকশার জমা দিতে হয় ২০০ টাকা করে। ৪০০ টাকা খরচই হয় প্রত্যেকদিন। তাই মাঝে মাঝে শুধু একবেলা খাই।’

তিনি বলেন, ‘দুপুরে মেসে না খাওয়া হইলে দোকান থেকে চা, বিস্কুট আর পানি খেয়ে পার করে দেই। সন্ধ্যার পর খাইলে চলে।’

একই কথা বলেন আরেক রিকশাচালক সাইফুল ইসলাম, ‘আমি নিয়মিত ঢাকায় থাকি না। আসি ১০-১৫ দিনের জন্য। গ্যারেজে থাকি। আমার টার্গেট থাকে প্রত্যেকবার ঢাকায় এলে ১০ হাজার টাকা করে গ্রামে নিয়ে যাওয়া। তাই বাইরে কখনও খাই, কখনও খাই না। এখন ঢাকায় খরচ বেড়ে গেছে। সব দিয়া আগের মত ১০ হাজার উঠে না। তাই কষ্ট করেই দিন চালাইতে হয়।’

দুপুরের খাবার নিয়মিত খেলেও খাবার গ্রহণের নির্ধারিত কোনও সময় নেই জানিয়ে শাজাহানপুর কলোনির ভাঙারি হকার বাবুল বলেন, ‘খাওনের টাইম-টেবিল নাই। পকেটে টাকা আইলেই খাই। টাকা বেশি থাকলে মাছ, ডিম দিয়া খাই। না থাকলে বিশ টাকার ভাত আর তিরিশ টাকার সবজি দিয়া খাই। আবার মাঝে মাঝে সন্ধ্যায় বাসায় গিয়ে খাই।'

দুপুরের খাবার না খাওয়াটাই নিয়মিত, খাওয়াটা অনিয়মিত মন্তব্য করে পল্টনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি ইফাদ শরিফ বলেন, কাজের চাপে দুপুরে খাওয়ার সময় পাই না। যে বেতন পাই তাতে বাইরের খাবার খরচ বেশি মনে হয়।