সকাল থেকে একনাগাড়ে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে রাজধানীতে। পুরান ঢাকার অনেক অলিগলি পানিতে ডুবে গেছে। ফুটপাত একেবারেই ফাঁকা। এদিক ওদিক তাকাতেই একজন কলা বিক্রেতাকে দেখা গেলো। কাকভেজা হয়ে একটা দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। কাছে যেতেই আকুতি মিনতি করে কলা কেনার কথা বললেন। না সূচক শব্দ উচ্চারণ করতেই মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
ষাটোর্ধ্ব এই কলা বিক্রেতার নাম মালেক মিয়া। আপন বলতে দুনিয়ায় কেউ নেই তার। থাকেন কদমতলীর ফলের আড়তে। তিনি বলেন, সকালবেলা ১০টাকা দিয়ে একটা পাউরুটি কিনে এখানকার কলা দিয়ে খেয়েছি। তা দিয়েই দিন কেটে সন্ধ্যা গেছে। বৃষ্টির কারণে এক টাকাও বিক্রি করতে পারি নাই। মানুষজন নাই, কে কিনবো? ভেজা শরীর নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, সারাদিনে আর কিছু খাই নাই। কয়টা কলা বেচতে পারলে ভাত কিন্না খাইতাম। আমার বয়সী অনেক মানুষ ঢাকায় ভিক্ষা কইরা খায়। কিন্তু আল্লাহ যতো দিন আমার শক্তি সামর্থ্য রাখবে, কারও কাছে হাত পাতবো না।
মহোর আলী (৭০) নামের আরেকজন কলা বিক্রেতা বলেন, চাল কেনার টাকা নেই। তাই বৃষ্টিতেও কলা নিয়ে বসে আছেন। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে দুই টুকরো পলিথিন দিয়ে কোনোরকম নিজেকে ঢেকে রেখেছেন তিনি। শরীরের বাম পাশ প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ায় ঠিক মতো হাঁটতে পারেন না। স্ত্রীর সাহায্যে লাঠিতে ভর করে চলতে হয়।
তিনি বলেন, আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। দুই ঝাঁপি কলা এনেছি। রাস্তায় মানুষ কম। তেমন বিক্রি হয়নি। এই কলাগুলো বিক্রি করতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এই বৃষ্টিতেও বসে আছি। কম দামে হলেও বিক্রি করে দেবো। তারপর চাল ডাল কিনে বাসায় যাব। ছেলেমেয়ের কথা জিজ্ঞেস করতেই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে উঠলেন, ওদের জন্য দোয়া করি আল্লাহ ওদের ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখুক।