প্রাণী কল্যাণ ও গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ করবে ডিএনসিসি

ঢাকা শহরের পোষা ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ, চিকিৎসা, আশ্রয়, যত্ন ও গবেষণার জন্য ভালো কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে বেওয়ারিশ কুকুরের মতো প্রাণীদের জলাতঙ্কের টিকা ও বন্ধ্যাকরণ না হওয়ার ফলে জনগণকে এর উপদ্রব পোহাতে হচ্ছে।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাজধানীতে একটি প্রাণী কল্যাণ ও গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ কেন্দ্রটি স্থাপনে গত ২৭ অক্টোবরের করপোরেশন সভায় বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, ‘ঢাকা শহরে পশুপাখি, বিশেষ করে বেওয়ারিশ কুকুরের টিকা, চিকিৎসা ও সেবা-যত্ন নেওয়ার কোনও কেন্দ্র নেই। তাই আমরা এটি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কাউন্সিলররা এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। কল্যাণ কেন্দ্রের পাশাপাশি গাছের চিকিৎসার জন্য কাজ হবে এখানে। কারণ ঢাকাকে আমরা গ্রিন হাব করতে চাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রটি স্থাপন করার জন্য আমরা দুই একর জায়গা বরাদ্দ করবো। মিরপুরের কল্যাণপুর পাম্প স্টেশনের কাছে সিটি করপোরেশনের ৫২ একর জায়গা আছে। এগুলো অবৈধ দখলে আছে। আমরা এ জায়গা অবমুক্ত করার জন্য কাজ করছি।’ পশুপ্রেমীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এটি স্থাপন ও পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

কীভাবে এটা পরিচালনা করা হবে, জানতে চাইলে উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা এর মোড অব অপারেশন (পরিচালনার ধরন) কেমন হবে, তা এখনও নির্ধারণ করিনি। এটি পরিচালনায় যদি পশুর ডাক্তার ও সেবাদানকারীসহ বিভিন্ন জনবল প্রয়োজন, তখন আমরা জনবল কাঠামোতে এ পদগুলো সংযোজন করবো। যদি বেসরকারিভাবে এটা পরিচালনা করা যায়, সেভাবেই করবো। আমরা শুধু প্রাণীর কল্যাণের দিকটাই দেখবো।’

এ উদ্যোগকে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন পিপলস ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রাকিবুল হক এমিল।

তিনি বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করতে প্রাণী অধিকার কর্মীদের সঙ্গে বসেছিল সিটি করপোরেশন। সেখানে আমরা বলেছি শুধু কল্যাণ কেন্দ্র করলেই হবে না, একটি গবেষণা কেন্দ্রও করতে হবে। কারণ, পোষা ও বন্য প্রাণী নিয়ে গবেষণা না থাকায় উন্নত দেশগুলোর চেয়ে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। সিটি করপোরেশন তাতে সম্মতি জানিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি এখানে পশু চিকিৎসার জন্য ছোট একটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার,  লাইব্রেরি, গবেষণেগার, আড্ডার জায়গা, পশু প্রাণী রাখার জায়গা।’

বৃক্ষপ্রেমীরাও তাদের জন্য গবেষণাগার ও গাছের চিকিৎসা কার্যক্রম করার জন্য জায়গা চেয়েছেন বলে জানান তিনি।