শাঁখারীবাজারে জমজমাট নাটাই-ঘুড়ির বিকিকিনি

আর মাত্র একটি দিনের অপেক্ষা। পুরান ঢাকাবাসী ক্ষণ গুনছেন ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইনের। সাকরাইন বা পৌষ সংক্রান্তি উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ রঙ-বেরঙের ঘুড়ি। আগামী ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি সাকরাইন উপলক্ষে শাঁখারীবাজারে জমজমাট নাটাই-ঘুড়ির দোকানগুলো। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ সবাই ভিড় করছেন সাকরাইনের অনুষঙ্গ নাটাই, ঘুড়ি, সুতো কিনতে। বাহারি নাটাই, ঘুড়ি নিয়ে ক্রেতাদের জন্য পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরাও।

শাঁখারীবাজারের পবিত্র ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী দিলিপ কুমার বলেন, ‘সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসছে। ঘুড়ি, নাটাই, সুতো কিনছে। আশা করছি শুক্রবার পা ফেলার জায়গা থাকবে না শাঁখারীবাজারে।’

সাকরাইন উপলক্ষে শাঁখারীবাজারে জমে উঠেছে নাটাই-ঘুড়ির বিকিকিনি

শাঁখারীবাজারের দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে বাহারি সব ঘুড়ি। দেশীয় লেজুড়ে ঘুড়ি ছাড়াও ভারত ও চীন থেকেও ঘুড়ি আমদানি করা হয়েছে। চশমাদার, কাউটাদার, পঙ্খিরাজ, প্রজাপতি , চক্ষুদার, ঈগল, সাদা ঘুড়ি, চারবোয়া, দুই বোয়া, টেক্কা, লাভ ঘুড়ি, তিন টেক্কা, মালাদার, দাবা ঘুড়ি, বাদুর, চিল– বাহারি এসব নামের ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে। ভারত ও চীন থেকে এসেছে মাছ, ফড়িং, স্পাইডারম্যানসহ নানা আকৃতির ঘুড়ি, বিক্রিও হচ্ছে খুব।

আকৃতি ভেদে দেশীয় ঘুড়ির দাম পাঁচ টাকা থেকে ৩০ টাকা। আর বিদেশি নকশা ঘুড়ির দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

বিদেশ থেকেও আমদানি করা হয়েছে নানা রকম ঘুড়ি

রনি ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী রনি রায় বলেন, ‘দেশীয় ঘুড়ি ছাড়াও চায়না ও ভারত থেকে ঘুড়ি আনা হয়েছে। আবার ঘর সাজানোর জন্যও ছোটো ঘুড়ি আছে। মানুষ পছন্দ করে নিচ্ছে। তবে দেশীয় ঘুড়ির চাহিদাই বেশি।’

ঘুড়ির পাশাপাশি রয়েছে নানা রকমের নাটাইও। কাঠ ও স্টিলের তৈরি বাটিওয়ালা, মুখবান্ধা, লোহা নাটাই, কাঠের নাটাই, চাবাডি নাটাই বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে ৮০ থেকে ৯০০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে নাটাই।

দেশীয় ঘুড়ির চাহিদা বেশি

ঘুড়ি-নাটাই ছাড়াও বিক্রি হচ্ছে মাজন দেওয়া সুতা। সুতার মধ্যে রয়েছে– ড্রাগন সুতা, ভূত সুতা, বিলাই সুতা। এসব সুতার অধিকাংশ এসেছে ভারত থেকে। সুতা ভেদে দাম ৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

সোভা ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মোহন রায় বলেন, ‘ছয় মাসে আগে ভারতে সুতা অর্ডার করি আমরা। ডিসেম্বরের মধ্যেই সুতা চলে আসে। আর নাটাই তৈরি হয় অধিকাংশই ধোলাইখালের ওখানে।'

দেশীয় ঘুড়ির চাহিদা বেশি

রাজধানীর সূত্রাপুর থেকে আসা ইয়াসিন বলেন, ‘প্রতিবছরই সাকরাইনের আগে নাটাই-ঘুড়ি কিনতে শাঁখারীবাজার আসি। সাকরাইনের সময় ঘুড়ি কাটাকাটি হয়। তাই ভালো মানের সুতা নিচ্ছি এবার। এক বান্ডিল সুতা নিয়েছি ৩০০ টাকা দিয়ে। আর ১০টা বড় ঘুড়ি কিনেছি।’

নারিন্দা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা অপূর্ব দেবনাথ বলেন, ‘প্রতিবছরই ঘুড়ি কিনি সাকরাইন আসলে। ঘুড়ি ওড়াতে, কাটাকাটি করতে অনেক মজা লাগে। আমরা বন্ধুরা মিলে এবার ঘুড়ি উড়াবো। আট বান্ডিল সুতো নিয়েছি। ৩০টা ঘুড়ি নিয়েছি। নাটাই আগের বছরের আছে। তাই নাটাই কেনা হয়নি।’

ঘুড়ির বাজার জমজমাট

বাংলা পঞ্জিকামতে পৌষ মাসের শেষের দিন পৌষ সংক্রান্তি পালিত হয়। সংক্রান্তি লোকমুখে বদলে লোকমুখে সাকরাইনে রূপ নিয়েছে। সেই হিসেবে শনিবার পালিত হবে সাকরাইন।

শাঁখারীবাজারে ঘুড়ির বাজার জমজমাট