দুর্যোগকালে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার আরবান রিজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগকালীন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংরক্ষিত রাখতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট ১০টি ওয়্যারহাউস নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি উত্তর সিটির অঞ্চল ২ ও অঞ্চল ৪-এর ওয়্যারহাউস থেকে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর আনুমানিক সকাল ৯টার দিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অঞ্চল-৪-এ চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে ৮ ডিসেম্বর অঞ্চল-২-এর ওয়্যারহাউসেও চুরি হয়।
চুরির বিষয়ে অঞ্চল-৪-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানমিন ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওয়্যারহাউসের পেছনের ভেন্টিলেটর দিয়ে চোর ভেতরে ঢোকে। তবে তারা দুর্যোগকালীন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি করতে না পারলেও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।’
অঞ্চল-৪-এ চুরি হওয়া জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে দুটি পানির পাম্প, ১টি পানির ট্যাংকের লোহার ঢাকনা, ২টি টয়লেট বেসিন, ৬টি পানির কল ও ৪টি লাইট। এসব জিনিসপত্রের মূল্য এক লাখ টাকা ধরে থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
তবে চুরির বিষয়টি স্বীকার করলেও কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না মন্তব্য করে অঞ্চল-২-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কী কী চুরি হয়েছে, তার হিসাব নেই। এই চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে বলবে।’
নতুন স্থানে অঞ্চল-২-এর কার্যালয় স্থানান্তর করায় দুই মাস ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এর ওয়ারহাউসটি। তাই চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান অফিসের অন্য কর্মচারীরা।
সিটি করপোরেশন অঞ্চল-২ এর চুরির বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর মডেল থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে বলতে পারবো কী কী চুরি হয়েছে। সেখানে যে সিসি ক্যামেরা ছিল, সেটাও নষ্ট ছিল। তাই তদন্তে সময় লাগছে।’
উল্লেখ্য, আরবান রিজিলিয়েন্স প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫টি করে মোট ১০টি ওয়্যারহাউস রয়েছে। প্রতিটি ওয়্যারহাউসে ৫৩টি দুর্যোগকালীন উদ্ধার সরঞ্জাম রয়েছে। যেগুলো মূল্য প্রায় কোটি টাকা।
‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি নিষ্ক্রিয়’
যেকোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি অঞ্চলে আট সদস্যের একটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি (জোনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম) রয়েছে। তবে বর্তমানে সেই কমিটির কোনও কার্যক্রম নেই। বড় কোনও দুর্যোগ না ঘটায় তেমন কোনও কার্যক্রম নেই বলে জানান দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে অঞ্চল-৪-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানমিন ইসলাম বলেন, ‘যেকোনও বড় দুর্যোগের প্রাথমিক উদ্ধার কাজসহ আনুসঙ্গিক অন্যান্য কাজ করার মতো সরঞ্জাম প্রতিটি ওয়ারহাউসে আছে। তবে উল্লেখযোগ্য কোনও দুর্যোগ না হওয়ায় তেমন বড় কোনও কার্যক্রম নেই এই কমিটির। মাঝেমধ্যে সড়কে কোনও গাছ পড়ে থাকলে তা সরানোতে কমিটি গিয়ে কাজ করে। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে কমিটি ও সংশ্লিষ্ট এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিটিং হয়ে থাকে।’