রাজধানীর গুলশানে ভিক্ষুকমুক্ত এলাকায় ভিক্ষা করার অভিযোগে তারা মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু কর্মকর্তাদের এক হাজার টাকা ঘুষ দিতে চাওয়ায় তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অভিযানের সময় এ শাস্তি পেয়ে তিনি এখন মিরপুরের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সমাজসেবা অধিদফতরের মিরপুরের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে তারা মিয়া মিরপুরে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ মেয়াদে আটকাদেশ পাওয়া পুরুষ ভিক্ষুকদের ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহ বা নারায়ণগঞ্জের সরকারি পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়।
মিরপুর আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, ‘তারা মিয়াকে কোন কেন্দ্রে পুনর্বাসন করা হবে, তা এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সমাজসেবা অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গতকাল গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও গাড়িতে থাকা যাত্রীদের কাছে টাকা চাইছিলেন তারা মিয়া। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা তাকে আটক করে পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠাতে গাড়িতে তোলেন। কিন্তু তিনি ভিক্ষুক নন দাবি করে পুনর্বাসনকেন্দ্রে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। এ সময় তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে কর্মকর্তাদের তিনি এক হাজার টাকা নেওয়ার প্রস্তাব করেন।
২০১০ সালের আগস্ট থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে।
অধিদফতরের সূত্রে জানা যায়, আটক হওয়া কোনও ব্যক্তির রক্তের সম্পর্কের কেউ যদি ছাড়িয়ে নিতে আসেন এবং প্রমাণ করতে পারেন যে আটক ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত নন, তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যথায় আটকাদেশের মেয়াদ শেষে ছাড়া হয়।
অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের সাধারণত গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জের সরকারি পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়। আটককালে তারা সেলাইয়ের কাজ, বাগান করা, রান্না করা, কাঠমিস্ত্রি ও বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি প্রভৃতি ছোট কাজের প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ব্যক্তি পছন্দ অনুযায়ী কিংবা যার জন্য যেটা প্রযোজ্য, এর ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরের ভিক্ষুকমুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে বিমানবন্দর চত্বর, বিমানবন্দর পুলিশ ফাঁড়ি ও আশপাশের এলাকা; হোটেল র্যাডিসন–সংলগ্ন এলাকা; গুলশান-১ ও ২ নম্বর, বারিধারা, ভিআইপি সড়ক, বেইলি রোড, হোটেল সোনারগাঁও ও হোটেল রূপসী বাংলাসংলগ্ন এলাকা; উত্তরার রবীন্দ্রসরণি ও কূটনৈতিক এলাকাগুলো।