প্রভাব বিস্তার নিয়ে হাতাহাতি, ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে খুন

রাজধানী যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ এলাকা থেকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শাওন নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়। স্ত্রীর জন্য ওষুধ আনতে বের হয়ে শত্রুদের হাতে খুন হন তিনি। বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এর আগে, মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-১০-এর একটি আভিযানিক দল।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন– মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান বেপারী ওরফে মিজান ওরফে ফরমা মিজান (৩২) ও তার সহযোগী মো. জুয়েল ওরফে ফুটবল জুয়েল ওরফে জুয়েল রানা (২৯)।  তাদের কাছ থেকে দেশি অস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, শাওনের লাশ উদ্ধারের পরের দিন ২০ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় চার জনের নাম উল্লেসহ ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। র‍্যাব জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন

আসামিদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শাওন দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন। তিনি টিকাটুলিতে একটি ট্রাভেলস কোম্পানিতে চাকরি করতেন। শাওন এবং আসামিরা যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। গত বছরের মাঝামাঝি সময় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাওনের সঙ্গে আসামি মিজানুর রহমানের ছোট ভাই রজবের বাকবিতণ্ডা হয়। পূর্ব শত্রুতার জেরে গত মাসে পুনরায় শাওন ও রজবের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি রজব তার ভাই মিজানকে জানায়। এর কিছু দিন আগে মিজানের নেতৃত্বে শাওনকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করে রজব। এ সময় তারা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ খুঁজতে থাকে। ঘটনার দিন রাতে শাওন তার স্ত্রীর জন্য ওষুধ আনতে বাসা থেকে বের হন। এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা মিজান মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করে। রজব অতর্কিত ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শাওনকে মারাত্মক জখম করে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, হত্যার সময় গ্রেফতার জুয়েল রাস্তার মোড়ে পাহারায় নিয়োজিত ছিল। ভুক্তভোগী গুরুত্বর জখম নিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় আসামিরা দৌড়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার পরপরই গ্রেফতার মিজান ও জুয়েল মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

গ্রেফতারদের পরিচয়

মিজান যাত্রাবাড়ী এলাকার একজন চিহ্নিত অপরাধী। তার নামে যাত্রাবাড়ী ও মীরহাজিরবাগ এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সময় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও মারামারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রজব-শাওনের মারামারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার নেতৃত্বেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার পর সে শ্যামপুর এলাকায় আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপন করে। পরে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সে গ্রেফতার হয়। তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।     

জুয়েল ওরফে ফুটবল জুয়েল যাত্রাবাড়ীর মীরহাজিরবাগ এলাকায় বসবাস করতো। একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতো সে। মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিল। সে গ্রেফতার মিজানের সঙ্গে বিভিন্ন সময় যাত্রাবাড়ী, মীরহাজিরবাগ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও মারামারির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় চারটি মামলা রয়েছে।      

গ্রেফতার দুই জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় র‍্যাব।