রাজধানীর ওয়ারী পুলিশ ফাঁড়ির সামনে একটি ছয় তলা ভবনের দোতলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট কাজ শুরু করে।
সোমবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ৫৫ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ২টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া শাখার কর্মকর্তা শাহজাহান সিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, রাত ১টা ৫৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণকক্ষে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে মোট ১০টি ইউনিট কাজ শুরু করে। প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
শাহজাহান সিকদার বলেন, এখন ভবনটিতে সার্চ করা হবে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
আগুন নেভাতে গিয়ে ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের দুজন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
পুলিশ বলছে, উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিলেও তারা আবার এসে জড়ো হতে থাকে। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি ফায়ার সার্ভিস যাতে তাদের কাজের গতিশীলতা পায়, কোনও বাধার সৃষ্টি না হয়।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় বেবি শপ ছিল। সিঁড়িগুলো ছিল কনজাস্টেড। এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোদমে নির্বাপণ করা হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা শুনতে পেরেছি পাশে একটি ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত তদন্ত করে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জানানো সম্ভব হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা।
তিনি জানান, ছয়তলা ভবনের দোতলা ছিল বাণিজ্যিক এবং ওপরের চারতলা আবাসিক। ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা জন্য পুলিশ ও র্যাবের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে বেবি শপের ম্যানেজার রনি বলেন, ভবনের নিচতলা ও দোতলায় ছোট বাচ্চা ও বড়দের কাপড়চোপড় বিক্রি হতো। কাপড়চোপড় যা ছিল, সবই পুড়ে গেছে। এতে আমার দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।