কল্যাণপুরে হাইড্রো ইকোপার্ক নির্মাণ হবেই: মেয়র আতিক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, যত বাধাই আসুক, জনগণের সুবিধার জন্য কল্যাণপুরে হাইড্রো ইকোপার্ক নির্মাণ করা হবেই।

বুধবার (১০ মে) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ডে ইকোপার্ক নির্মাণের লক্ষ্যে চলমান কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র আতিক বলেন, ‘কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ডে হাইড্রো ইকোপার্ক নির্মাণের লক্ষ্যে আমরা এখানে পূর্ণ খনন কাজ শুরু করেছি। পূর্ণ খনন করতে গিয়ে আমাদের বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে। অবৈধ দখলদারদের আমি কোনও বৈধ নোটিশ দেবো না।’

তিনি বলেন, ‘ইকোপার্ক কারও একার জন্য নয়, এটা পুরো রাজধানীবাসীর জন্য। সব বয়সের মানুষের জন্য এই পার্ক করা হবে। শিশু, নারী, পুরুষ, বয়স্ক– সব মানুষের সুবিধা থাকবে এখানে। আমরা এখানে সিটি ফরেস্ট গড়ে তুলবো। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা শহরে হাতিরঝিল প্রকল্প করে দিয়েছেন। কল্যাণপুরে আমরা তেমনই ন্যাচারবেজড ইকোপার্ক নির্মাণ করবো।’

কল্যাণপুর রিটেনশন পন্ডে ইকোপার্ক নির্মাণের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান

রিটেনশন পন্ডের পাশে জলশয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ভবন নির্মাণ হলে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় বাধা হবে উল্লেখ করে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘এখানে ১৭৩ একর জলাশয়ের মধ্যে ১১৭ একর জমি হচ্ছে বিএডিসির। জলাধার আইনে পরিষ্কার বলা আছে, বৃষ্টি ধারণ অঞ্চলের (রিটেনশন পন্ডের) জন্য বিএডিসিকে জমি দেওয়া আছে। কিন্তু শীতকালে এটা হবে বীজতলা। এখানে কোনও ধরনের বিল্ডিং করতে পারবে না। অথচ বিএডিসি জলাশয় ভরাট করে ভবন নির্মাণের কাজ করছে। এটি শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় বাধা হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে পাঁচটি খাল থেকে পানি আসবে বৃষ্টি ধারণ অঞ্চলে। যত বৃষ্টি পড়বে এই রিটেনশন পন্ডে পানি আসবে। এরপরে পাম্প করে নিয়ে যাবো তুরাগ নদীতে। এলাকাগুলোতে কোনও জলাবদ্ধতা হবে না। বাস্তবে এটা যদি ঠিক করতে না পারি তাহলে মোহাম্মদপুর, মিরপুর, কল্যাণপুর, শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া পানিতে ডুবে যাবে। ইকোপার্ক যত বড় হবে এলাকাবাসী তত বেশি সুফল ভোগ করতে পারবেন।’

এ সময় মেয়র আতিক বলেন, ‘পাশেই বিডিআর মার্কেট নামে অবৈধ দখল রয়েছে। এখানে বিডিআর মার্কেট নাম দিয়ে চাঁদাবাজি চলে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। এটি দ্রুতই উচ্ছেদ করা হবে।’