জাতীয়করণের দাবিতে সড়কে শিক্ষকরা, যানজটে নাকাল রাজধানীবাসী

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে গত বুধবার (১১ জুলাই) থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতদিন চলাচলের রাস্তা খোলা রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও রবিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকেই রাস্তা বন্ধ করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট, ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা।

পল্টন থেকে প্রেস ক্লাবমুখী রাস্তা (এক লেন) বন্ধ করে শিক্ষকরা অবস্থান করায় অপর পাশের রাস্তা দিয়ে সব যানবাহনের চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে যানযট। এই রাস্তা পার হতে যানবাহনগুলোর লেগে যাচ্ছে দীর্ঘ সময়।

এই রুটে চলাচলকারী সাভার পরিবহনের হেলপার মুকুল বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে দেখছি রাস্তার একপাশ বন্ধ করে রেখেছে। এখন একপাশ দিয়েই গাড়ি যাওয়া আসা করছে। তাই রাস্তায় অনেক জ্যাম।’

যানজটে আটকে আছে গাড়ি

পথচারী শাহ পরান বলেন, ‘আমরা যাবো কাজীপাড়া। কিন্তু আন্দোলনকারীরা রাস্তা বন্ধ করে রেখেছেন। এটা করাতে আমাদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। ৪০ মিনিটের বেশি সময় ধরে জিনিসপত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, বাস পাচ্ছি না।’

অপরদিকে আন্দোলনকারী ভাঙা থানার আব্দুল আবাদ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা স্কুল বন্ধ করে দিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্কুল খোলা হবে না। আমাদের স্কুলের সব শিক্ষক আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়বো না।’

টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীম আল মামুন বলেন, ‘স্কুলে তালা ঝুলছে, ঝুলবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত স্কুলের তালা খুলছি না। অবস্থান কর্মসূচিও চলতে থাকবে। সামনের দিনগুলোতে আরও অনেক শিক্ষক আন্দোলনে যোগ দেবেন বলে আমরা আশা করছি। আমাদের দাবি একটাই, জাতীয়করণ।’ 

পল্টন থেকে প্রেস ক্লাবমুখী রাস্তা বন্ধ করে শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে সৃষ্টি হয় যানজট

এর আগে, গত শুক্রবার (১৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমতির সভাপতি মো. বজলুর রহমান জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। অথচ একই কারিকুলামের অধীন একই সিলেবাস, একই অ্যাকাডেমিক সময়সূচি, একইভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছে পাহাড় সমান বৈষম্য। তাছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেল সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বেতন স্কেলের এক ধাপ নিচে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী টাকা পাওয়ার আগেই অর্থাভাবে বিনাচিকৎসায় মৃত্যুবরণ করেন। তাছাড়া কয়েক বছর ধরে কোনও ধরনের সুবিধা না দিয়েই অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট খাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত চার শতাংশ কাটা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলসহ অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হয়েছিলেন শিক্ষকরা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।