চলমান মশক নিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিটিআই (বাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস) কীটনাশক প্রয়োগ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ সময় বিটিআই ব্যবহারের নানা সুবিধার কথা তুলে ধরেছেন ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।
সোমবার (৭ আগস্ট) সকালে ডিএনসিসির অঞ্চল ৩-এর আওতাধীন গুলশান-২ এর ৪৭ নম্বন সড়ক এলাকায় প্রথমবারের মতো এই কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। এ সময় উপস্থিত থেকে প্রয়োগ কার্যক্রম দেখেন মেয়র।
বিটিআই প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিটিআই প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট একটি ব্যাকটেরিয়া। এটা পরিবেশের কোনও ক্ষতি করে না। এছাড়া এর ব্যবহারে মশার লার্ভা ছাড়া অন্য কোনও জলজ প্রাণী ও পোকামাকড় ধ্বংস হবে না। ফলে মশার লার্ভা খেয়ে ফেলার জন্য ড্রেনে যেসব গাপ্পি মাছ আছে, সেসব মাছ আর বিষাক্ত কীটনাশক খেয়ে মারা যাবে না। এতে করে বায়োলজিক্যাল ট্রিটমেন্ট করতে সুবিধা হবে।’
এছাড়া মশা নিধনে বিটিআই ব্যবহারে বিশেষ সুবিধা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি একটি এলাকায় একবার প্রয়োগ করলে ১০ দিনের মধ্যে সেখানে আর স্প্রে করতে হবে না। এতে আমাদের যে জনবল আছে, আমি আরও অনেক বেশি এরিয়া কাভার করতে পারবো। আগে সপ্তাহে দুবার টেমিফস্ট ব্যবহার করা হতো। তবে বৃষ্টি হলে আবার সাত দিন পরপর বিটিআই প্রয়োগ করতে হবে।’
বিশ্বে উন্নত দেশগুলোতে বিটিআই প্রয়োগ করা হয় জানিয়ে ডিএনসিসির মেয়র বলেন, ‘বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এটি ব্যবহার করছে। বিভিন্ন দেশে দেখার পরে আমরা বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে এটা নিয়ে এসেছি। আশা করি, এটি ব্যবহারে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।’
মেয়র জানান, ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলের মশা নিধনের পুরো টিমকে আগামী পাঁচ দিন ট্রেনিং করে কীভাবে এটি প্রয়োগ করতে হয়, সেটি শেখানো হবে।
বিটিআই প্রয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখা হবে জানিয়ে মেয়র আতিক বলেন, ‘সঠিক পরিমাণে বিটিআই মিশ্রণ হয়েছে কিনা, সঠিক পরিমাণ জায়গায় প্রয়োগ করা হয়েছে কিনা এগুলো মনিটরিং করা হবে। আমরা প্রথম ধাপে পাঁচ টন বিটিআই এনেছি। এতে তিন মাস চলবে।’
এ সময় ব্যক্তি পর্যায়েও বিটিআই ব্যবহার করা যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ভবনের বেজমেন্টে প্রায় ৪৩ শতাংশ লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। তাই বেজমেন্টেও বিটিআই প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছি। তবে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ওষুধ কোম্পানিগুলো বাণিজ্যিকভাবে যদি এটি বাজারজাত করে ওভার দ্য কাউন্টারে বিক্রির ব্যবস্থা করে তাহলে সবাই নিজেদের বাড়িতে ব্যবহার করতে পারবে।’
প্রথবার বিটিআই প্রয়োগের সময় অন্যান্যের সঙ্গে আরও ছিলেন– ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শফিকুর রহমান, উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লে. কর্নেল মো. গোলাম মোস্তফা সারওয়ার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক, সিঙ্গাপুর থেকে আগত বিটিআই কীটনাশক বিশেষজ্ঞ লি শিয়াং, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মফিজুর রহমান, অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলকার নায়ন প্রমুখ।