ব্লকেডে অচল ঢাকা

কোটা সংস্কার, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও ২০১৮ সালের সরকারি পরিচত্র পুনর্বহালের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। রবিবার (৭ জুলাই) বিকাল ৩টা থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছে তারা। একে একে প্রায় পুরো ঢাকা ব্লকড করায় রাজধানী অচল হয়ে পড়েছে। প্রতিটি রাস্তায় শতশত গাড়ি থেমে আছে। হাজার হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়া চেষ্টা করছেন।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত শহরের বেশিরভাগ সড়কের মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা কোনও যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছেন না। শুধু এম্বুলেন্স ও রোগী বহনকারী গাড়িগুলোকে ছেড়ে দিচ্ছেন তারা। সকাল থেকে সড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও আন্দোলনের প্রভাবে দুপুরের পর থেকে তীব্র যানজট দেখা দেয়। বিশেষ করে বিকালে বেশিরভাগ অফিস শেষ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।

শাহবাগে কোটাবিরোধী আন্দোলন (ছবি: ফোকাস বাংলা)

সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শাহবাগ, নীলক্ষেত, চানখারপুল, সায়েন্স ল্যাব, বাংলামোটর, কাওরান বাজার, মিরপুর, আগারগাঁও, পুরান ঢাকা ও বাড্ডাসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছেন। এতে সড়কে আকটা পড়া যানবাহন কোথাও যেতে পারছে না। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কেই বসে আছে হাজার হাজার গাড়ি।

বাংলা মটর মোড়ে আফিফা ফিরোজ নামে এক নারী বলেন, ‘আমি সায়েন্স ল্যাব থেকে ছেলে নিয়ে রিকশায় করে মগবাজার বাসার দিকে যাচ্ছি। তবে বাংলামোটর মোড়ে শিক্ষার্থীরা আমাদের আটকে দিয়েছে। এখন গাড়ি রেখেও যেতে পারছি না। একই কথা বলেন সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে। গাড়ি না থাকলেও আমি হেঁটে চলে যেতাম। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টার একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা যায়?’

পান্থপথ মোড়ে কথা হয় মাহমুদ ও জুথির সঙ্গে। তারা বলেন, ‘আমরা পল্টন থেকে হেঁটে এসেছি। কোনও যানবাহন চলছে না। মতিঝিল থেকে একটি বাসে উঠেছিলাম। পল্টন আসার পর বাস আর না চলায় সবাই হেঁটে যাচ্ছে। তাই আমরাও হেঁটে হেঁটে বাসায় যাচ্ছি।’

পান্থপথ পুলিশ বক্সের ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) মো. হাবিব বলেন, ‘বিকাল থেকে বেশিরভাগ সড়কে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অবস্থা নেওয়ায় কোনও সড়কে যানবাহন চলাচল করতে পাচ্ছে না। তবে আগে থেকে কমিশনার স্যারের নির্দেশনা ছিল, সড়ক অবরোধ হলে বিকল্প সড়কে যানবাহন চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার। যেসব সড়ক ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে, আমরা সেসব সড়কে গাড়ি চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছি। যাতে সামান্য হলেও মানুষের ভোগান্তি কমানো যায়।’

কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে ও মাথায় জাতীয় পতাকা, হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, বিভিন্ন স্লোগানে সড়ক ব্লকড করে রেখেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’; ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘দফা এক দাবি এক, কোটা নট কাম ব্যাক’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। অনেকের মাথায় ‘কোটা নয় মেধা ভিত্তিতে চাকরি চাই’ লেখা হেডব্যান্ড দেখা যায়। অনেকের হাতে ও মাথায় জাতীয় পতাকা বাধা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর হাতে কোটা বাতিল ও ১৮ সালের সরকারি ঘোষণা পুনর্বহালের দাবির বিভিন্ন স্লোগানের প্ল্যাকার্ড।