রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চার জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, কাঠমিস্ত্রি রাসেল দাস (২৭) ও তার সহকারী আলাউদ্দিন (১৭), নির্মাণশ্রমিক আব্দুর নূর (৩৫) এবং রঙমিস্ত্রি আইউব আলী (৪৫)।
শুক্রবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার (১৩ জুলাই) তাদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
রাসেল দাসের ভায়রা সুমন দাস জানান, রাসেল পল্লবীর বাউনিয়া আজিজ মার্কেটে খাদিজা ফার্নিচারের কারখানায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রবল বৃষ্টিতে ওই কারখানায় পানি ঢোকে। সেখানে ফার্নিচারের ডিজাইনের একটি ভারী মেশিং পানিতে ভিজে যাচ্ছিল। ওই সময় মেশিনটি সরাতে গেলে আলাউদ্দিন ও রাসেল বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
পরে ডিএমপির পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ ওই দুই শ্রমিকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
রাসেল দাস চট্টগ্রাম পটিয়া উপজেলার রতন দাসের ছেলে। বর্তমানে বাউনিয়াবাদ আজিজ মার্কেট এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। ১৭ মাস বয়সী এক ছেলের জনক ছিলেন তিনি। আলাউদ্দিন ময়মনসিংহ তারাকান্দা উপজেলার বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনিও একই এলাকায় থাকতেন।
অপরদিকে, কতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজীব ঢালী জানিয়েছেন, সিএমএম আদালতের পাশে আগরবাতি গলি দিয়ে যাওয়ার পথে জমে থাকা পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন মো. আইয়ুব আলী। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল পরে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইউব আলী পিরোজপুর নাজিরপুর উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত শেখের ছেলে। বর্তমানে সুত্রাপুর পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
উত্তর ভাষানটেকে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু হয় আব্দুর নূরের।
ভাষানটেক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রণয় কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ‘শুক্রবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে উত্তর ভাষানটেকের বাসায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অচেতন হয়ে পড়েন নূর। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে নূর। বর্তমান উত্তর ভাষানটেক পরিবার নিয়ে থাকতেন।