দুঃখ ভুলে রঙিন মুখে মাকে বিদায়

দেবী দুর্গা আজ কৈলাস ফিরে যাবেন। তাই ভক্তদের মনে দুঃখ। তবে তাদের কষ্ট লাঘব করতে আগামী বছর আবার আসবেন দুর্গা। দেবীর বিদায়ের কষ্ট ভুলে থাকতে এবং হাসিমুখে বিদায় জানানোর জন্য ভক্তরা মত্ত হয়েছেন সিঁদুর খেলায়। রবিবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভক্তরা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। একই দিনে তিথি থাকায় দশমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার সকালে।

দেবীকে হাসিমুখে বিদায় জানানোর জন্য ভক্তরা মত্ত হয়েছেন সিঁদুর খেলায়। ছবি: নাসিরুল ইসলাম

দুর্গাপূজায় সবশেষ রীতিটি হচ্ছে ‘দেবী বরণ’। এটি শুরু হয় বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মাধ্যমে। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা মাকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে-অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। তারা এই সিঁদুর মাখিয়ে দুর্গা মাকে বিদায় জানান। দেবীকে নিয়ে যাওয়ার আগে সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর আঙুলে লেগে থাকা বাকি সিঁদুরটুকু তারা একে-অপরের মুখে মাখেন।

সিঁদুর মাখার রীতি অনেক সময় দশমী ঘরে পালন করা হলেও অনেকে আবার নিজেদের ঘরেই খেলে থাকেন। মুখ রঙিন করে হাসিমুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই এই সিঁদুর খেলা। তাই মাকে বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে অপরকে সিঁদুর লাগিয়ে মিষ্টিমুখ করেন, নাচ গান করেন, যেন সারাটা বছর এমন আনন্দেই কাটে।

এক নারীকে সিঁদুর মাখিয়ে দিচ্ছে একটি শিশু। ছবি: নাসিরুল ইসলাম

স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন নারীরা নিজ কপালে সিঁদুর লাগান এবং সেই সিঁদুরের কিছু অংশ দিয়ে দেবীর চরণ স্পর্শ করে থাকেন। তারপর সবাই মিলে একে অপরকে সিঁদুর মাখেন। দুর্গা আগামী বছর আবার সঙ্গে করে শাঁখা-সিঁদু নিয়ে আসবেন এবং সেই শাঁখা-সিঁদুর ধারণ করেই স্বামীর মঙ্গল হবে- এই বিশ্বাসে ভক্তরা সিঁদুর নিয়ে দশমী উদযাপন করেন। এই উৎসবের নামই সিঁদুর খেলা।

দশমীর দিন নারীরা নিজ কপালে সিঁদুর লাগান। ছবি: নাসিরুল ইসলাম

এই সিঁদুর খেলা বিবাহিত নারীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও সবাই মণ্ডপে ভিড় করেন, নেচে গেয়ে এতে অংশ নেন। অবিবাহিতরা গালে আর হাতে মাখেন সিঁদুর।

মুখ রঙিন করে হাসিমুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই এই সিঁদুর খেলা। ছবি: নাসিরুল ইসলাম

মায়ের চরণে সিঁদুর দিতে আসা সুপ্রিয়া দেবনাথ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিয়ে ছাড়া মাথায় সিঁদুর দেওয়া যায় না। আমাদের একদিন বিয়ে হবে, তখন ভালো স্বামী এবং সুখের সংসারের কামনায় আমরা সিঁদুর খেলায় আসি। বিয়ে হলে আমরাও সিঁথিতে সিঁদুর পরবো।’

স্বামীর মঙ্গল কামনায় মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন নারীরা। ছবি: নাসিরুল ইসলাম

সিঁদুর খেলতে আসা অপর এক নারী পূজা সাহা বলেন, ‘স্বামীর মঙ্গল কামনায় মায়ের কাছে প্রার্থনা করি। তার পায়ে সিঁদুর ছুঁয়ে দিয়ে তার কিছুটা সিঁথিতে লাগালে সংসারে মঙ্গল হয়।’

দুর্গা মাকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে-অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। ছবি: নাসিরুল ইসলাম

মহালয়া থেকে দেবী দুর্গার মর্ত্যলোকে আসার ঘণ্টা বাজে। ষষ্ঠীতে তিনি ভক্তদের মাঝে অধিষ্ঠিত হন। আর দশমীতে তিনি কৈলাস চলে যান। গতকাল বিজয়া দশমীর পূজা শেষ হলেও আজ হবে প্রতিমা বিসর্জন। দুর্গা মায়ের বিদায়ের দিন। ঘোড়ায় চড়ে দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন। দুপুর ৩টায় ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বের হবে শোভাযাত্রা। এটি শেষ হবে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে গিয়ে। সেখানে করা হবে প্রতিমা বিসর্জন।