রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামি’আ রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার ভবন দখলমুক্ত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ। মাদ্রাসার ভবন দখল হয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তারা। বুধবার (২০ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পর্ষদের নেতারা এই দাবিসহ অন্যান্য দাবি তুলে ধরেন।
পরিষদ নেতাদের অভিযোগ, মাওলানা মাহফুজুল হক ও তার অনুসারীরা অবৈধভাবে এই মাদ্রাসার ভবন দখলে নিয়ে রেখেছেন। অথচ আদালত থেকেও বিষয়টি এর আগেও নিষ্পত্তি হয়েছিল। ভবন দখলের পাশাপাশি লুটপাট ও ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন পরিষদ নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ বলেন, আগস্টের ৫ তারিখে জামি‘আ রাহমানিয়া আরাবিয়া জবর দখল করে নেয় মাওলানা মাহফুজুল হক, তার ভাই মাওলানা মামুনুল হক ও তার অনুসারীরা। মাদ্রাসার ভবন দখল ইস্যুতে জামি’আ পরিচালনা পরিষদ আদালতের কাছে ২০১৪ সালে শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের ঘোষণা করা আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে। আদালত প্রথম আদেশেই ওই আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরে হাইকোর্ট আল্লামা আজিজুল হকের আহ্বায়ক কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে।
এসময় তারা তাদের অন্য দাবিগুলো তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১। বেআইনিভাবে ভবন দখল করে রাখা ভবন ত্যাগ করে প্রকৃত কর্তৃপক্ষের কাছে চাবি বুঝিয়ে দিতে হবে।
২। ওয়াকফ প্রশাসককের জারি করা অবাস্তব, অন্যায্য ও বেআইনি নোটিশ বাতিল করতে হবে এবং প্রকৃত কমিটিকে বহাল রাখতে হবে।
৩। দখলদাররা স্বেচ্ছায় ভবন ত্যাগ না করলে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত কমিটিকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
৪। সরকারকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫। জবরদখলকারী ও বেআইনিভাবে জারি করা ওয়াকফ প্রশাসনের নোটিশ বিষয়ে আদালতের কাছ থেকে যথাযথ সিদ্ধান্ত দিতে হবে।
৬। ওয়াকফ প্রশাসনের দুর্নীতি বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কেউ দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
৭। ভবন দখলের সময় প্রশাসনের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে এবং প্রতিকারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মুজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মুনীর সাঈদ, কোষাধ্যক্ষ হাফিজ আব্দুল গাফফার, সদস্য আব্দুর রব, আলহাজ আব্দুল মতিন, জামি'আ রাহমানিয়া আরাবিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি ইবরাহীম হেলাল, ভাইস প্রিন্সিপাল মুফতি সাঈদ আহমাদ, সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম আল মাসউদ, মুফতি বুরহানুদ্দীন কাসেমী, মাওলানা ক্বারী মুনীরুজ্জামান কাসেমী, মুফতি মীযানুর রহমান কাসেমী প্রমুখ।