সোহরাওয়ার্দী ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন কলেজের একাদশ-দ্বাদশ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের ঘটনার পর পুরান ঢাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দিনভর উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে আশেপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ এবং সদরঘাটে যাতায়াতের উদ্দেশে আসা যাত্রীদের। সন্ধ্যার পরও আতঙ্ক বিরাজ করছে জনসাধারণের মনে, সড়কে যান চলাচলও অন্যদিনগুলোর তুলনায় কম ছিল।
রবিবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, লক্ষ্মীবাজার, কোর্টকাচারি, বাহাদুর শাহ পার্ক ও সদরঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়- সড়কে যেখানে ছুটির দিনেও যানজট নিত্যদিনের বিষয় সেখানে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সড়কে যান চলাচল একেবারেই নেই বললে চলে। রিকশা চলছে তবে প্রাইভেট কার, পিকআপসহ অন্যান্য যানবাহন একেবারেই কম। দুপুরে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া লক্ষ্মীবাজারের দোকানগুলো সন্ধ্যায় খুললেও ক্রেতার দেখা মেলেনি বলে জানান দোকানিরা।
লক্ষ্মীবাজার কাপড় বিক্রেতা হাদি বলেন, সকালে দোকান খুলেও মারামারির ভয়ে বন্ধ করে চলে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যার পর খুললাম কিন্তু বিক্রি হয়নি।
এরআগে দুপুর থেকে চলা সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ২০ জন। ন্যাশনাল মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে সিনিয়র স্টাফ নার্স সরকার আলাউদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও ভাঙচুর করা হয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ ও সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল এন্ড কলেজ। সোহরাওয়ার্দী কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের ইতিহাসের ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষাও ২ ঘণ্টা হওয়ার পর স্থগিত করা হয়।
কবি নজরুল কলেজের ছাত্র মুফতি বলেন, পরীক্ষা দেড়ঘণ্টা চলার পর আমরা ভাঙচুরের শব্দ পাই। দুই ঘণ্টা পার হলে আড়াইটা দিকে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে শিক্ষকরা।
কথা হয় চাঁদপুর থেকে লঞ্চযোগে সদরঘাটে আসা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এসেছি ১২টায় কিন্তু এই মারামারির সময়ে ঘাটেই ছিলাম। আমার জরুরি কাজ ছিল আজ। কাজ শেষে রাতে ফেরার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু এখনতো বেলা শেষ হয়ে গেলো।
পোস্তগোলা থেকে অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে ন্যাশনাল মেডিক্যালে আসা হারুন অর রশিদ বলেন, বাচ্চার জ্বর কয়েকদিন ধরে। ডেঙ্গু টেস্ট করার জন্য এসেছি। কিন্তু এখন আটকে আছি। হাসপাতালের সামনে মারামারি হচ্ছে।
ব্যবসার কাজে সাভার থেকে পুরান ঢাকায় আসা খন্দকার ওবায়দুল বলেন, এসেছিলাম মালামাল কিনতে। কিন্তু মারামারি জন্য বাস চলছে না। অপেক্ষা করছি বাস চলার। দেশে কি যে শুরু হয়েছে। যার যখন মন চাচ্ছে রাস্তা আটকাচ্ছে, মারামারি করছে।