‘মেগা মানডে’

ডিএমআরসি অভিমুখে কবি নজরুল-সোহরাওয়ার্দীর শিক্ষার্থীরা

কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ (ডিএমআরসি) অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন কবি নজরুল কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন। তাদের আজকের কর্মসূচির নাম ‘মেগা মানডে’।

সরেজমিনে দেখে গেছে, সোমবার (২৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কবি নজরুল কলেজের মূল ফটকের সামনে জড়ো হন হাজারও শিক্ষার্থী। দুপুর ১২টার দিকে তারা জর্জ কোর্টের সামনে দিয়ে রায় সাহেব বাজার হয়ে দয়া গঞ্জের দিকে এগিয়ে যান।

শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজে হামলার পাল্টা জবাব দিতেই যাত্রাবাড়ীর ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের উদ্দেশ্যেই যাত্রা করেছেন তারা। এ সময় তাদের ‘মোল্লা কলেজের চামড়া, তুলে নেবো আমরা’, ‘জেগেছেরে যে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।

ডিএমআরসি অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছেন কবি নজরুল কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা

মেগা মানডে কর্মসূচি সম্পর্কে কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা যাত্রাবাড়ী যাচ্ছি, ডিএমআরসিকে বোঝাতে চাই, তারা কাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের একটা উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া দরকার। গতকাল সুপার সানডে ঘোষণা দিয়ে তারা আমাদের শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের ওপর যেভাবে হামলা করেছে আজ আমরা তার প্রতিশোধ নেবা।’

কবি নজরুল কলেজের সায়েম নামে আরেক শিক্ষার্থী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছে। এতেই বুঝা যায়, আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের অবস্থান কেমন। নতুন করে পাওয়া এই স্বাধীন দেশে যারা গতকাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে আজ তার জবাব দিতেই আমরা ডিএমআরসি যাচ্ছি।’

সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী হৃদয় মিয়া বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসন বরাবরই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এ কারণে আমরা বাধ্য হয়ে আজ ডিএমআরসি যাচ্ছি। গতকাল তারা আমাদের ওপর হামলা করলেও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে চুপ ছিলাম। কিন্তু আর না, এর একটা পাল্টা জবাব না দিলে তাদের শিক্ষা হবে না। তাদের সুশিক্ষার যথেষ্ট অভাব আছে।’

এর আগে কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবুর রহমান সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারি কলেজে হামলা মানে সরকারের সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া। সরকার যদি চায়, তাহলে কিন্তু তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তখন তাদের কলেজ থাকবে কিনা সেটাও সন্দেহ আছে। যারা গতকাল কলেজে হামলা চালিয়েছে তারা সন্ত্রাসী। তাদের ছবি আছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’ এ সময় তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোহরাওয়ার্দী কলেজ এবং কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

জানা গেছে, ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) শিক্ষার্থী অভিজিৎ হাওলাদার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ন্যাশনাল মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তির দুই দিন পর গত ১৮ নভেম্বর মারা যান। প্লাটিলেট কমে গেলে পরিবার তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিতে চায়। এতে বাধা দেয় ঢাকার ন্যাশনাল মেডিক্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মৃত্যুর পর টাকা দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশ আটকে রাখে। ২০ নভেম্বর ডিএমআরসি কলেজের শিক্ষার্থীরা লাশ নিতে গেলে কোনও সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। সন্ধ্যার পর শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করতে আসে। এ সময় ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীরা তা না মানায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে সরেয়ে দেয়। ২১ নভেম্বর ডিএমআরসির শিক্ষার্থীরা আবার ন্যাশনাল মেডিক্যালে আসেন। তখন  কবি নজরুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ডিএমআরসির শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে।