জমে উঠেছে খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেট

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে গত কয়েকদিনের ঈদের কেনাকাটায় ক্রেতা উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে শুক্রবার থেকে বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এদিন ইফতারের পর ঐতিহ্যবাহী তালতলা মার্কেটে ক্রেতার ঢল নামে। ক্রেতাদের আগমনে মুখর হয়ে ওঠে মার্কেট। ক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে হাসি ফুটছে বিক্রেতাদের মুখেও।

শুক্রবার (২১ মার্চ) ইফতারের পর সরেজমিন তালতলা মার্কেট পরিদর্শনে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

খিলগাঁও থানা লাগোয়া এই মার্কেটটি বেশ পুরোনো। নাম-ডাকও রয়েছে। এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষই এখানে কেনাকাটা করতে আসে। পোশাক থেকে শুরু করে নারীদের চুড়ি, বালা, ফিতা; সব ধরনের কসমেটিকস মেলে এই মার্কেটে। এমনকি আতর সুরমা ও বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ একটি মার্কেটে যে ধরনের পণ্যসামগ্রী থাকার প্রয়োজন তার সবই রয়েছে এখানে। আশেপাশে রয়েছে বিভিন্ন দামিদামি ব্র্যান্ডের সব শো-রুম।   

ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা

মার্কেটে ঢুকতেই চোখে পড়ে ক্রেতার ঢল। প্রায় প্রতিটি দোকানই ক্রেতায় পরিপূর্ণ। কথা হচ্ছিল পাঞ্জাবি বিক্রেতা আসলাম আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ক্রেতা তেমন আসেনি। কিন্তু আজ (শুক্রবার) সকাল থেকেই ভিড়। সন্ধ্যার পর তো অনেক ক্রেতা। বিক্রিও ভালো হচ্ছে।’

আসলাম আলী আরও বলেন, ‘৫০০ থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা দামের পর্যন্ত পাঞ্জাবি আছে আমার দোকানে। তবে বেশিরভাগ ক্রেতা এক হাজার টাকার মধ্যেই খুঁজছেন। সকাল থেকে আমি ২০০টির বেশি পাঞ্জাবি বিক্রি করেছি। আশাকরি সময় যত গড়াবে বিক্রি আরও বাড়বে।’

ছোট বাচ্চাদের পোশাক বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমরা প্রায়ই হতাশই ছিলাম। কিন্তু শুক্রবার থেকে সবার মুখে হাসি। সকাল থেকেই ভালো বিক্রি হচ্ছে। সন্ধ্যার পরও লোকজন আসছে। বিক্রি আরও বাড়বে।’

তালতলা মার্কেটে ক্রেতার ঢল

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত লোকজন বেশি আসে। তাদের বাজেটের পরিমাণও কম। আমরা সেভাবেই মালামাল আনি, যেন ক্রেতারা অল্প দামের মধ্যেই কিনতে পারে। ছোট বাচ্চাদের পোশাক ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। এগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।’

মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, পোশাকের দোকানে যেমন ভিড় রয়েছে তেমনি ভিড় রয়েছে চুড়ি, ফিতাসহ ইমিটেশনের দোকানগুলোতে। নারীরা ভিড় করছেন এসব দোকানে।

মেহেদি ও চুড়ি কিনছেন সালমা নামের এক কিশোরী। এসেছে মায়ের সঙ্গে। কথা হয় তার মা ফাতেমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটি পোশাক কেনা শেষে মেহেদি ও চুড়ি কেনার জন্য এই দোকানে এসেছে।

ক্রেতাদের সরব উপস্থিতিতে হাসি ফুটছে বিক্রেতাদের মুখেও

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী সিএনজিচালক। একমাত্র কন্যা, তার জন্যই কিনতে এসেছি। নিজেদের জন্য এখনও কিছু কিনিনি। তবে কেনার ইচ্ছা আছে। মেয়ের আগ্রহের কারণে এই মার্কেটে এসছি।’

বেসাসরকারি একটি কোম্পানিতে কর্মরত আসিফ বলেন, ‘আমি খিলগাঁওতেই থাকি। নিজের জন্য পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। তবে আগে মায়ের জন্য শাড়ি ও বাবার জন্য পাঞ্জাবি কিনেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর। বাবা-মা সেখানেই থাকেন। তাদের সঙ্গে ঈদ করতে মাদারীপুর যাবো। তার আগে কেনাকাটা শেষ করছি।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসবে এই মার্কেটে ক্রেতার সমাগম তত বাড়বে। বর্তমানে ক্রেতাদের যে আগমন এটি অব্যাহত থাকলে ঈদে ভালো ব্যবসা হবে বলেও প্রত্যাশা তাদের। 

ছবি: প্রতিবেদক