নারীর ফাঁদে পড়ে বেকায়দায় সরকারি কর্মকর্তা, গ্রেফতার ৪

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে আটক, মারধর ও জোর করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এক চক্রের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বসুমতি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছে থেকে আদায় করা চাঁদার ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। 

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— নাজমুন নাহার সুখী (২৮), কামরুন নাহার আঁখি (৩২), রুমানা ইসলাম স্মৃতি (৫০) ও মো. সাফাত ইসলাম লিংকন (২৫)।

থানা পুলিশের বরাত দিয়ে ডিসি তালেবুর রহমান জানান, ভিকটিম উচ্চপদস্থ একজন সরকারি কর্মকর্তা। গ্রেফতার কামরুন নাহার আঁখি তার পরিচিত। ভিকটিমের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে গত ৩ থেকে ৪ মাসে ৫ লাখ টাকা ধার নেয় আঁখি। পরবর্তী সময়ে ভিকটিম টাকা ফেরত চাইলে আঁখি টালবাহানা শুরু করে। গত ১৮ এপ্রিল ব্যক্তিগত কারণে ঢাকায় আসেন ভিকটিম। পরদিন ১৯ এপ্রিল বিকালে নাজমুন নাহার তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের গেট থেকে ছোলমাইদ উত্তরপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার চারজনসহ অজ্ঞাতনামা একজন ভিকটিমকে আটক করে। 

তিনি বলেন, সেখানে সাফাত ইসলাম বালিশ দিয়ে তার মুখ চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে এবং অন্যরা তার হাত-পা বেঁধে মারধর করে। এরপর তারা ভিকটিমের কাছে ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে ৬০ লাখ ২৩ হাজার ৮০ টাকা সংগ্রহ করে তাদের দেন। এরপর তারা ভিকটিমের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিএমপির ভাটারা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

থানা সূত্রে আরও জানা যায়, মামলা সূত্র ধরে ভাটারা থানা পুলিশ চক্রটির সদস্যদের চিহ্নিত ও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে। গতকাল (শুক্রবার) রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা সমাজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে তাদের ব্ল্যাকমেইলের জাল বিস্তার করে। প্রথমে তারা তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। সখ্যতার এক পর্যায়ে ভিকটিমদের একটি বাসায় নিয়ে আসে। সেখানে আটক, নির্মম মারধর, চাঁদা আদায় এবং নগ্ন ভিডিও ধারণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করে থাকে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। 

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। চক্রের পলাতক এক সদস্যকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়েছে পুলিশ।