গ্রাফিক্স আর্টস ইনস্টিটিউটে টর্চার সেল: শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গ্রাফিক্স আর্টস ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা জানান, ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কিছু শিক্ষার্থী ‘টর্চার সেল’ চালিয়ে কয়েকজন সহপাঠীকে লোহার রড, স্ট্যাম্প ও প্লাস দিয়ে নির্যাতন করে। একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তাদের নখ তুলে ফেলা হয় এবং সিগারেটের আগুনে শরীর ঝলসে দেওয়া হয়।

শনিবার (২৪ মে) সকালে মোহাম্মদপুরে গ্রাফিক্স আর্টস ইনস্টিটিউটের সামনে এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করে নির্যাতিত ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

গত ১৫ মে রাতে ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান গাল্টু, ফরহাদ হোসেন শাওন ও টিটু মোল্লাকে মোবাইল চুরির অভিযোগে ছাত্রাবাসের ৩১৮ নম্বর রুমে আটকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের সময় তারা বলছিলেন, ‘আবরার ফাহাদের মতো অবস্থা হবে।’ পরে গাল্টুর পরিবার ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ এনে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

নির্যাতনের শিকার আরিফুর রহমান গাল্টু জানান, ডিউটি শেষে বাসায় ফিরলে মাহী তাকে ফোনে হলে ডেকে নেন। মোবাইল চুরির অভিযোগে তাকে ও আরও দুইজনকে আলাদা রুমে নিয়ে মারধর করা হয়। 

গাল্টু বলেন, “তারা বলছিল, ‘আবরার-তোফাজ্জলের অবস্থা দেখছিস? তোরও তাই হবে।’ টানা নির্যাতনে কয়েকবার অচেতন হয়ে পড়ি। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর পরিবারের সহায়তায় পুলিশ এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। কয়েকদিন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও পারেনি। ফরহাদ ও টিটুকেও একইভাবে মারধর করা হয়।”

এরপর গত ১৭ মে তানভীর নামে আরও এক শিক্ষার্থী একই গ্রুপের হাতে নির্যাতনের শিকার হন। তিনি জানান, তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে প্লাস দিয়ে নখ তুলে ফেলা হয় এবং গাঁজার আগুন দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল ফারহানা ইয়াসমিন জানান, অভিযুক্তদের সাময়িক বহিষ্কার করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী ইফতেখার বলেন, ‘এ ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী মামলা করেছে। আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ দিতে এসেছে। আমরা তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গ্রাফিক্স আর্টস ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।