বাড্ডায় বিএনপি নেতা হত্যাকাণ্ডের মোটিভ খুঁজতে মাঠে একাধিক ইউনিট

রাজধানীর মধ্যবাড্ডায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন নিহতের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বের করতে গোয়েন্দাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি ইউনিট মাঠে কাজ করছে। তবে এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন সুনির্দিষ্ট কাউকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দুই যুবককে শনাক্ত করেছে। তাদের খুঁজে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ। 

এর আগে রবিবার (২৫ মে) দিবাগত রাত মধ্যবাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় গুলশান থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামরুল আহসান সাধনকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনার সময় সাধন স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হৃদ্‌রোগ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের আগে দুর্বৃত্তরা সেখানে ঘোরাঘুরি করছিল বলে জানা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, দুইজন অস্ত্রধারী হেঁটে এসে পেছন থেকে সাধনকে গুলি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার বলেন, প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে ১১টার মধ্যে বাসা থেকে বের হতেন তার স্বামী কামরুল আহসান সাধন। ফিরতেন রাত ১১ থেকে ১২টার মধ্যে। কখনও কখনও আরও রাত করে ফিরতেন। গতকাল (রবিবার) তিনি বাসায় ফেরেন রাত পৌনে ১০টায়। তখন আমি নামাজ আদায় করছিলাম। বললাম আর তিন রাকাত নামাজ বাকি। শেষ করে খাবার দিচ্ছি, খেয়ে যান। এর মধ্যে একটা কল আসে। ওই কলে কথা বলতে বলতে তিনি দরজা বাইরে থেকে লক করে বের হয়ে যান। ২০ মিনিট পরেই খবর আসে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনি।

দিলরুবা আক্তার আরও বলেন, লোকটার সঙ্গে আমার ২৪ বছরের সংসার। আমাদের কোনও সন্তান নেই। অত্যন্ত সুসম্পর্কেই সংসার করছিলাম। কখনোই আমাদের মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়ন আসেনি। মহল্লায় সাধনের সঙ্গে কারও বিবাদ-বিরোধ ছিল না। ব্যবসায়িক বা রাজনৈতিক কারণেও কারো সঙ্গে কোনও বিরোধ বা দ্বন্দ্ব ছিল বলে কখনও শুনিনি। এমন একটা লোককে কেউ হত্যা করতে পারে! তারা কেমন পাষণ্ড! এখন আমি কী নিয়ে বাঁচবো?

এ প্রসঙ্গে পুলিশের বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার শফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের মোটিভ ও আসামি শনাক্ত করতে পুলিশের কয়েকটি ইউনিট মাঠে কাজ করছে। 

তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেছে, অস্ত্রধারী দুই ব্যক্তি তাদের একজনকে ধরতে পারলেই এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ জানা যাবে। জড়িতদের যেন দ্রুত গ্রেফতার করা যায় আমরা সেইভাবেই কাজ করছি।  

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এটা ছিনতাইয়ের উদ্দেশে গুলির কোনও ঘটনা নয়, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের পর আমাদের স্পষ্ট মনে হয়েছে, এটা টার্গেটেড কিলিং। কারণ টার্গেট করে শুধু সাধনকেই গুলি করা হয়েছে।