বৈদ্যুতিক গোলোযোগ থেকে উত্তরায় ভবনে আগুন: ফায়ার সার্ভিস

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে বৈদ্যুতিক গোলোযোগ থেকে আগুন লেগেছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর। আগুনে ক্ষতি হয়েছে ৪৫ লাখ টাকার মালামাল। আর উদ্ধার করা হয়েছে ২ কোটি টাকার মালামাল। 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, ভবনের দোতলার কোনও অংশ থেকে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে বিস্তারিত তদন্তে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে আগুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাত তলা বিশিষ্ট ভবনের অন্য বাসিন্দারা। আগুনের তীব্রতা ও সৃষ্ট ধোয়ায় তারা আটকে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বের হয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেন। আগুন নির্বাপণের পর বিকাল থেকে বাসিন্দারা নিজগৃহে ফিরতে শুরু করেছেন। 

শুক্রবার সকালে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে উত্তরা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট গিয়ে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে মারা যান ভবনের বাসিন্দা দুটি পরিবারের ৬ জন। নিহতরা হলেন— ফজলে রাব্বী (৩৮), হারিস (৫২) ও রাহাব (১৭), আফরোজা, রোদেলা আক্তার (১৪) ও আড়াই বছর বয়সি শিশু রিসান। এছাড়া অন্তত ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল ও ঢামেকের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। 

নিহতদের শরীরে পোড়া ক্ষত না থাকলেও ধোঁয়ার কারণে শ্বাসবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। 

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান এই তথ্য জানিয়ে বলেন, নিহতদের শরীরে তেমন কোনও পোড়া ক্ষত নেই। আগুনের ভয়াবহ ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আবাসিক ভবনটির দ্বিতীয় তলায় হঠাৎ করেই আগুনের মতো কিছুটা একটা চোখে পড়ে। মুহূর্তে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। 

আগুন লাগা ভবনটির চার তলার শিবলু তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, যখন আগুনের ঘটনা ঘটে তখন আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে ওপর থেকে গ্লাস ভেঙে পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আগুন যে লেগেছে এটা বুঝতে পারিনি। শব্দ পাচ্ছি ওপর তলায় গ্লাসের মতো কী যেন ভেঙে ভেঙে গুঁড়ো হয়ে ফ্লোর জুড়ে পড়ছে বৃষ্টির মতো। তখনই আমার ঘুম ভেঙে যায়। সবাইকে নিয়ে দৌড়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এত ধোঁয়া, ধোঁয়া দেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভেতরে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আমরা নিরাপদে বের হই।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কেউ চাইলে মামলা করতে পারেন। তবে আমরা একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রেখেছি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডির) ক্রাইম সিন ইউনিট। 

তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়ায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার পর ভবনের বাসিন্দারা নিজ নিজ ফ্ল্যাটে উঠেছেন।