কলেজ গেট এলাকার ২ হাসপাতাল বন্ধ করলো স্বাস্থ্য অধিদফতর

রাজধানীর কলেজ গেট এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতালে তদারকি অভিযান চালিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ সময় বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় দু’টি হাসপাতল বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া দু’টি হাসপাতালের আংশিক কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে একটি ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রমও। পাশাপাশি তিনটি হাসপাতালকে সতর্ক করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনব্যাপী এ অভিযান চালানো হয়।

সকালে শুরু হওয়া অভিযানের শুরুতেই অভিযানকারী দল যান ‘টিজি মাল্টি স্পেশালাইজ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে’। সেখানে গিয়ে কোনও দায়িত্বরত চিকিৎসককে পাননি পরিদর্শনকারী কর্মকর্তারা। এমনকি, রোগীদের ব্যবস্থাপত্রেও পাওয়া যায়নি কোনও চিকিৎসকের স্বাক্ষর। ওই সময় হাসপাতালটির এনআইসিইউতে চার শিশুকে ভর্তি থাকতে দেখতে পান কর্মকর্তারা। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তবে, কাউকে পাননি কর্মকর্তারা। এসব কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, একই এলাকার প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এবং প্রাইম ব্লাড ব্যাংকেও অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ সময় নানা অনিয়ম পাওয়ায় প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সকল ধরনের আইসিইউ, এনআইসিইউ, ইনডোরে রোগী ভর্তি এবং অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করা হয়। এছাড়া নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রাইম ব্লাড ব্যাংকেরও সকল কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

একই এলাকায় অবস্থিত যমুনা হাসপাতালের মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স এবং ২০ শয্যাকে ২৯ শয্যা বেড দিয়ে পরিচালনাসহ নানা অনিয়ম দেখাতে পান অধিদফতরের কর্মকর্তা। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালটির আইসিইউ, এনআইসিইউ ও ইনডোর রোগী ভর্তি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন চার রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয় অধিদফতরের কর্মকর্তারা। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এসব অসঙ্গতির বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

এছাড়া রয়েল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং রেডিয়াম ব্লাড ব্যাংক এন্ড টিসি সেন্টারে অভিযানকালে নানা অনিয়ম পেয়েছেন কর্মকর্তারা। এ জন্য তাদেরও আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।