রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত ধানমন্ডি লেকের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী ‘বায়োডাইভারসিটি ওয়াক’ বা জীববৈচিত্র্য পদযাত্রার আয়োজন করেছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন বিভাগের উদ্যোগে ‘প্রকৃতির মাঝে শিক্ষা—জীববৈচিত্র্য পদযাত্রার মাধ্যমে শিখন ও চর্চার সমন্বয়’ শিরোনামের এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন এনভায়রনমেন্টাল জার্নালিজম কোর্সের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশবরেণ্য প্রকৃতিবিদ, স্থপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপাস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভিজুয়াল আর্টিস্ট কামরুজ্জামান স্বাধীন। পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় স্থানীয় মানুষদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন শিল্পকর্ম করে আসছেন তিনি। ইতোমধ্যেই তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের একটি গ্রামের কয়েকশ’ নারী-পুরুষ ও শিশু মধ্যে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করেছেন। তার সেই কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের শুনান।
শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে দেশীয় গাছ ও ফুল চিনিয়ে দেন এবং এগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকৃতি লেখক ও তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন। তিনি উপস্থিতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আমাদের দেশে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার উদ্ভিদ আছে। একটি নগরে শুধু গাছ থাকলেই হয় না, বরং জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য দেশীয় প্রজাতির গাছ ও ফুলের উপস্থিতি অপরিহার্য।’
অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত স্থপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকৃতি এবং মানুষের ভারসাম্য রক্ষার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞ তিন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুসন্ধানের কৌশল শেখান।
নিউ এজের সিনিয়র স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সাদিকুর রহমান মিথুন ও প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার মোস্তফা ইউসুফ দেখান কীভাবে নীতিমালার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণকারীদের শনাক্ত ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হয়। পাশাপাশি সাবেক সাংবাদিক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুর রহমান আদিল আলোকপাত করেন ঢাকার স্থানীয় পরিবেশগত সমস্যাগুলো নিয়ে।
গবেষণার তথ্য মতে, ধানমন্ডি লেক এলাকায় বর্তমানে ৫৭ প্রজাতির পাখি ও বিচিত্র গাছপালা থাকলেও ক্রমবর্ধমান বায়ু, শব্দ ও পানি দূষণের কারণে এই সংকীর্ণ ইকোসিস্টেমটি এখন হুমকির মুখে। মূলত এ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের সচেতন করতেই এআইইউবি এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে।