বিদেশে লোক পাঠানো বিএসবি গ্লোবালের মালিকের সব সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ

বিএসবি গ্লোবালের খায়রুল বাশারের ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় সিআইডি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সিআইডি জানায়, বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী প্রতারক খায়রুল বাশার ও তার সহযোগীদের পারস্পরিক যোগসাজশে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষার জন্য স্বল্প খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠানোর চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে প্রাথমিক সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এ মামলা করা হয়।

অভিযুক্ত খায়রুল বাশার বাহারকে মানিলন্ডারিং মামলায় গত গত বছরের ১৪ জুলাই ধানমন্ডি থানা এলাকা থেকে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।

মামলাটির প্রাথমিক তদন্তকালে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে বড় স্ত্রীর নামে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট, ২য় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা প্রকাশ ডোনার নামে শেলটেক বিথীকা প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট ও নিজ নামে রাজাবাজার এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং রাজধানীর আজিজ সড়কে জি+৭তলা ও জি+৬তলা বিশিষ্ট দুটি বাড়িসহ তার নিজ নামে ও প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৩৪৮২.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে। যার দলিল মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আসামির নামে থাকা উক্ত স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ প্রদান করেছেন।

অভিযুক্ত খায়রুল বাশার নিজেকে একজন শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিলেও এর আড়ালে তিনি বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সহযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন।