জনস্বার্থবিরোধী অর্থনীতি-আইনের মধ্যে সাংবাদিকতা কীভাবে নিরপেক্ষ হতে পারে: নূরুল কবীর

সমাজের অন্যায়, জনস্বার্থবিরোধী অর্থনীতি, আইন-কানুন যদি থাকে, তাহলে এইরকম একটা সময়ের মধ্যে সাংবাদিকতা বা যেকোনও বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতা কীভাবে নিরপেক্ষ হতে পারে এমন প্রশ্ন তুলেছেন ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর। 

রবিবার (২ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘রাজনীতি, ক্ষমতা ও আন্তঃসংশ্লেষ: তত্ত্ব, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

নূরুল কবীর বলেন, ‘নিরপেক্ষতার অর্থ তো আসলে একটা জনস্বার্থবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করা। এই নিরপেক্ষতার অর্থই হচ্ছে– একটা বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে, প্রতিবাদ না করে সেটাকে নিরপেক্ষতার ছদ্মাবরণে পারপেচুয়েট করতে দেওয়া, বয়ে দিতে চাওয়া।’

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিউ এইজ সম্পাদক বলেন, ‘যখন সাংবাদিকতা করি, কার জন্য করি? কী ধরনের সাংবাদিকতা করি? এই যে একটা কথা প্রচলিত আছে ‘‘নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা’’, এই বস্তুটা কী? এই প্রশ্নটা আমাদের নিজেদের, অধ্যাপকদের, শিক্ষার্থীদের মাথায় নিরন্তরভাবে কার্যকর থাকা দরকার।’

বাংলাদেশ কি বৈষম্যহীন সমাজে পরিণত হয়েছে কি না, এ প্রশ্ন তুলে সাংবাদিক নূরুল কবীর বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র, তার ম্যানেজার যেকোনও রাজনৈতিক দলই থাকুন না কেন, তারা কি সাধারণ মানুষের স্বার্থে নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করে কি না? যদি করে, তাহলে সমাজের মধ্যে ধনী এবং গরিবের এই অশ্লীল ধরনের বৈষম্য কীভাবে জারি থাকে?’

নিউ এইজ সম্পাদক বলেন, ‘সাংবাদিকতার একটা কাজ তো অবশ্যই পরিষ্কারভাবে তথ্য প্রদান করা। কিন্তু কেবলমাত্র তথ্য প্রদান করা নয়। তথ্য মানেই আমি ধরে নিচ্ছি যে— তথ্য আর অপতথ্য বলে কিছু নেই। যা কিছু তথ্য, তার বাইরে সবকিছুই অপ।’

বিদ্যমান বস্তুনিষ্ঠ তথ্যকে আপনার বৈষম্যের দৃষ্টিকোণ থেকে, কোন শ্রেণি শাসন-শোষণ করছে, কারা শাসিত-শোষিত হচ্ছে; সেটা পরিষ্কারভাবে ধারণা দেওয়া এবং প্রয়োজনে পরিষ্কারভাবে পক্ষালম্বনের প্রশ্নে একটা অবস্থান গ্রহণ করা সাংবাদিকতার একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করেন প্রবীণ সাংবাদিক নূরুল কবীর।