ঢাকাকে বড় বড় অবকাঠামো দিয়ে সাজানোর আগে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, ডেঙ্গু, সড়ক, সড়কবাতি, ম্যানহোল ও যানজটসহ নগরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়, যানজট ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ, বুড়িগঙ্গা দূষণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা-৬ আসনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় সমস্যা। কিছু এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়।
ডেঙ্গুকে বর্তমানে এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনের কয়েকটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকির এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ বাড়ানো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সড়কের সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় অনেক রাস্তা অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংশ্লিষ্ট অনেক ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এসব কাজ আটকে যায়। এতে দীর্ঘদিন মানুষ ভোগান্তিতে ছিলেন। তবে বেশির ভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং কিছু জায়গায় ফিনিশিংয়ের কাজ চলছে।
পুরান ঢাকার সড়কবাতির সমস্যা তুলে ধরে ইশরাক বলেন, অনেক সরু সড়কে সন্ধ্যার পর চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য সমস্যা বেশি। তাই দ্রুত সড়কবাতি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি ও দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, পানি জমে গেলে খোলা ম্যানহোল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। এ সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
যানজট ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশনও এতে যুক্ত রয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু এলাকায় রিকশার প্রয়োজন রয়েছে। তাই জোনভিত্তিক সীমিতসংখ্যক রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া যায় কিনা, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। একইসঙ্গে অটোরিকশার আমদানি ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রয়োজন।
অটোরিকশা হঠাৎ বন্ধ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে। অটোরিকশার বিষয়ে মন্ত্রিসভায়ও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, ঢাকা শহরে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় সাতটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৪০টির বেশি সেবাদানকারী সংস্থা কাজ করে। তাই নাগরিক সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন বলে জানান।
বুড়িগঙ্গা দূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীতে কলকারখানা ও রাসায়নিক বর্জ্য ফেলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি বাসাবাড়ির স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাপনাও ঠিক করতে হবে। বর্জ্য পরিশোধনের পর নদীতে পানি ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
ঢাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ইশরাক বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসে বড় উন্নয়ন প্রকল্পের চেয়ে জরুরি নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে। তার নীতি হলো—আগে একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলা। ঢাকা সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, লন্ডন বা ইউরোপের কোনও শহরের মতো হবে—এমন প্রতিশ্রুতি না দিয়ে প্রথমে নগরবাসীর মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, উন্নয়ন বলতে শুধু দালানকোঠা, সেতু বা সড়ক নয়; গ্যাস, পানি, ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়নও এর অংশ। ঢাকার পুরোনো অবকাঠামো আধুনিকায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
মেয়র নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, দল চাইলে তিনি মেয়র নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। আবার দল অন্য কাউকে প্রার্থী করলে তাকেও জয়ী করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।