রাজধানীর সিআইডি সদরদফতর, পল্লবী থানা, খিলক্ষেত থানা, হোটেল রেডিসনের সামনে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ১০০ ফিট এলাকায় ভাটারা থানার সামনে একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে নগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাতে এসব ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশ এসব ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ করছেন তারা।
জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন এলাকা, ভিসি চত্বর, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও মধুর ক্যানটিনের সামনে এবং নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণসহ আশপাশের কয়েকটি স্থানে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। টিএসসি এলাকায় বিস্ফোরণের পর দুই জনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করেন শিক্ষার্থীরা।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার থেকে জানানো হয়, এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে আটক করা হয়েছে।
রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, এসব ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানা ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য ইউনিটও কাজ করছে।
এদিকে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত ফ্লাইওভারের ওপর থেকে পল্লবী থানার ভেতরে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে এসআরবির এক সদস্য আহত হয়েছেন।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যেই থানা প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
এ ছাড়া মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পল্টন থানার ওসি আরিফুল আলম আরিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সিআইডি কার্যালয়ের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর ১০০ ফিট এলাকায় ভাটারা থানার সামান্য সামনে সন্ধ্যায় একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ জানায়, হঠাৎই বাসে আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা যায়নি।
ভাটারা থানার এসআই দেবাশিষ সরকার জানান, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দোষীদের গ্রেফতারে কাজ শুরু হয়েছে।
রাজধানীর খিলক্ষেত থানার সামনে রাত ১১টার দিকে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
থানার ডিউটি অফিসার এসআই সোহেল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুটি শব্দ আমরা শুনেছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখছেন।
এদিকে এর কিছুক্ষণ আগে হোটেল রেডিসনের সামনেও একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো জনমনে আতঙ্ক তৈরি এবং নাশকতার উদ্দেশে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
রবিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
ঘটনাগুলোর বিষয়ে ডিএমপির অবস্থান তুলে ধরে আকতার হোসেন বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুনের প্রতিটি ঘটনা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন ও অঙ্গ-সংগঠনের সদস্যরা রয়েছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে স্পষ্ট, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নাশকতা ও আতঙ্ক ছড়াতে এসব কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ডিএমপির অপারেশনাল কার্যক্রম ও পুলিশ মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং আতঙ্ক দূর করতে ডিএমপির মোবাইল পার্টি ও পিকেট ডিউটির পাশাপাশি কড়া নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।
ককটেল উপাদানগুলো কোথায় বানানো হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে আকতার হোসেন বলেন, এর আগেও ককটেল তৈরির উপাদান ও বিস্ফোরকদ্রব্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। নাশকতার উদ্দেশে পেট্রোল পাম্প বা অন্য কোথাও থেকে দাহ্য পদার্থ কেনাবেচা হচ্ছে কি না, তা মনিটর করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে কারা নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব দাহ্য পদার্থ সংগ্রহ করছে, তাদের শনাক্ত করতে ডিএমপির অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।