প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে। এরপর নতুন কমিশন দায়িত্ব নেবে।
পূর্ববর্তী কমিশনের অধীনে ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে এবং ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি কুমিল্লায় ভোট হয়েছিল। ভোটের পর ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ এবং ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়। আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়াদকাল হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী ৫ বছর। আর মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করারও আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ২৬ ডিসেম্বর ও কুমিল্লার আগামী বছর ৮ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে ইসিকে ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ এবং ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কুমিল্লার ভোট শেষ করতে হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসপি) ও প্রাথমিক সমাপনী এবং বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই কমিশন এই দুই সিটির নির্বাচন করতে চায়। সে অনুযায়ী ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে এ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত জুনের মাঝামাঝি সময় এই দুই সিটি নির্বাচনের নথি প্রস্তুত করা হয়। পরে কমিশন বিষয়টি নিয়ে কমিশন বৈঠকে আলোচনা করে বিধিমালা তৈরি করতে কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশন দেয়। এরই আলোকে কমিশন খসড়া বিধিমালা তৈরি করে ফেলেছে। তবে এখনও এটা কমিশন বৈঠকে ওঠানো হয়নি। কমিশনে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করার পর আইন মন্ত্রণালয়ে তা ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ হলেই নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের তফসিলের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তাদের মেয়াদ আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। আর মেয়াদ শেষের আগে তাদের সামনে বড় নির্বাচন বলতে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন রয়েছে।
সংশোধিত সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে উল্লেখ করে এই কমিশনার বলেন, দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মতো সিটি করপোরেশনের বিধিমালায়ও সংশোধন আনতে হবে। কমিশন বিধিমালা তৈরির জন্য সচিবালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে। বিধিমালা হলেই আমরা নির্বাচনের তফসিলের দিকে যাব।
নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নারায়ণঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছি। দলীয়ভিত্তিতে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনের বিধিমালার খসড়াও আমরা ইতোমধ্যে তৈরি করেছি। এই খসড়া কমিশনে উপস্থাপন করার পর সেটা চূড়ান্ত হবে। নির্বাচন হবে হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কবে নাগাদ ভোটগ্রহণ হবে তা কমিশন নির্ধারণ করবে। তবে বিধান অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ করতে হবে। সেই হিসেবে একটি নির্বাচন এ বছরের মধ্যে করতেই হবে।
দু’টি সিটি নির্বাচন একইদিনে হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, স্কুল-কলেজগুলোর বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে ডিসেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। দুটো সিটির ভোট একইদিনে করা যায় কিনা—সেটাও ভাবা হচ্ছে। তবে সব বিষয়ে কমিশনেই সিদ্ধান্ত হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৪ লাখ ৩ হাজার ৭০৬ ভোটার ২০১১ সালে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছিলেন। আর কুমিল্লা সিটিরও একই সংখ্যক ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৭৩ জন ভোটার ২০১২ সালের নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছিলেন।
/এমএনএইচ/