এ বিষয়ে জোট সমন্বয়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা পার্টিগতভাবে নির্বাচনে যাচ্ছি। তবে, এখনও জোটের বৈঠক হয়নি। বৈঠক করে সব ঠিক করব।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২২ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। ৪ জুন পর্যন্ত ৬ ধাপে দেশের সাড়ে হাজার ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২২ মার্চ দেশের ৩৭ জেলার ৭৫২ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, ২০ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের জোটগত নির্বাচনের বিষয়টি সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচন জোটগত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। আমরা আলাদাভাবে প্রার্থী দেব।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান বলেন, দলীয়ভাবে অংশ নেব। জোটগতভাবে না। ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছি। আগামীকাল নমিনেশন কে দেবেন, এই নাম আমরা দ্রুত ইসিতে পাঠাব। তিনি জানান, প্রথম ধাপে আমরা শতাধিক স্থানে প্রার্থী দেব।
ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বলেন, আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রার্থী দিচ্ছি। পরে যদি জোটগত কোনও আলোচনা হয়, সেটি সময়সাপেক্ষে জানা যাবে। আপাতত আমরা এককভাবে প্রার্থী বাছাই করছি।
এদিকে, আদালতের রায়ের ফলে নিবন্ধন হারিয়ে অযোগ্য হলেও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত। পৌরসভার মতো ইউপিতেও তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়বেন দলটির মনোনীতরা। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই জামায়াতের।
দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের তো দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। প্রথম ধাপে কতজন প্রার্থী হবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা দায়িত্বশীলরা বলতে পারবেন। এটা আমি বলতে পারব না ।
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২৩৫ পৌরসভার নির্বাচনেও এই বাধার মুখে পড়েছিল একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত। ওই নির্বাচনেও দফায় দফায় বৈঠকের পর শেষ পর্যন্ত এককভাবে লড়াই করে দলটি।
জামায়াতের ঢাকা মহানগর সূত্রে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী দেওয়াসহ এ সংক্রান্ত কাজ দেখভালের দায়িত্ব পেয়েছেন মহানগরের নায়েবে আমির হামিদুর রহমান আযাদ ও সেক্রটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। তারা দুজনই দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম নির্বাহী পরিষদের সদস্য।
সূত্র জানায়, আঞ্চলিক দায়িত্বশীলরা তাদের কাছে প্রার্থী তালিকা দেবেন। সেসব এলাকায় জামায়াতের ভালো অবস্থান রয়েছে সেখানে প্রার্থী দেবে। রংপুর, রাজশাহী, খুলনা বিভাগের জেলাগুলো ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও সিলেটের কয়েকটি এলাকায় জামায়াতের রিজার্ভ ভোট আছে। এসব এলাকায়ই স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভোটে লড়বেন জামায়াত নেতারা। অন্যত্র নির্বাচন থেকে দূরে থাকবে।
/এসটিএস/এমএনএইচ/