ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টির কারণে দেশের দুটি নদীর দুই পয়েন্টের পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে।
সোমবার (১৮ এপ্রির) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি কমছে, অপরদিকে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারত আবহাওয়া অধিদফতরের গাণিতিক মডেলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪৮-৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি কমা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতল ধীর গতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতল ধীর গতিতে বৃদ্ধি এবং বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। আগামী ৪৮-৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতল ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারিগোয়াইন নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টের পানি রবিবার (১৭ এপ্রিল) ছিল বিপৎসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপরে, সোমবার তা কিছুটা কমে ৩৯ সেন্টিমিটার এবং বাউলাই নদীর খালিয়াজুরি পয়েন্টের পানি ১০ থেকে বেড়ে ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এখন প্রবাহিত হচ্ছে।
বৃষ্টিপাতের বিষয়ে বলা হয়, সিলেট স্টেশনে ৫৮ মিলিমিটার এবং লালাখাল স্টেশনে ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একইভাবে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৬৫, ধুব্রিতে ৪৮, গ্যাংটকে ৬৩ এবং তেজপুরে ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের ফলে বৃহস্পতিবার থেকে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। অন্য নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে।