আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও আগামী নির্বাচনসহ বিবিধ বিষয়ে এই নেতার সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউস্থ ন্যাম ভবনে তার বাসায় একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন আব্দুর রহমান।
১৯৮৬ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এই নেতা। এরপর ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারি উপজেলা থেকে দুই দুইবার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তখন তিনি দশম শ্রেণির ছাত্র। ১৯৬৯ সাল ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহাকে হত্যার প্রতিবাদে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। সেটাই ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। সেই থেকে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা করে নেন রাজনীতিতে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে যান। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিরোধ সংগ্রাম চালাতে থাকেন। দেশে ফিরে আসার পর গ্রেফতার হয়ে জেলে যান। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি। তারপর থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন।
বাংলা ট্রিবিউন: এবারই প্রথম আওয়ামী লীগের মতো বড় দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেলেন। নতুন কী ধরনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবেন। আসলে আপনার ভিশন কী?
আব্দুর রহমান: নতুন কমিটির ভিশন হলো শেখ হসিনার ‘ভিশন ২০২১’ সফল করার জন্যে তার সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করা এবং তার হাতকে আরও শক্তিশালী করা। ক্ষুধা, দরিদ্র ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত করে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আওয়ামী লীগকে আরও সুসংগঠিত করা, নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকা ও অনৈক্য দূর করা। সবাইকে এক জায়গায় এনে সকলের মতভেদ দূরে ঠেলে দিয়ে আরও শক্তিশালী করা। এরজন্যে সাংগঠনিক সফর জরুরি।
বাংলা ট্রিবিউন: মাঝে মাঝেই দলের অভ্যন্তরে কোন্দলের কথা শোনা যায়।সবার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য যদি এক হয়ে থাকে, তবে কোন্দল কেন?
আব্দুর রহমান:আওয়ামী লীগ বৃহত্তম একটি রাজনৈতিক দল, বড় সংসার।এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। পরস্পরের ভেতরে ভুল বোঝাবোঝি আছে। মাঝে মধ্যে একজনের প্রতি অন্যের অনাস্থাও কাজ করে। এক্ষেত্রে শৃঙ্খলাকে সুসংহত করা, যার যার দায়িত্ব বন্টন ও সর্বোপরি জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, নির্বাচনী চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে হলে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার কোনও বিকল্প নাই।
বাংলা ট্রিবিউন: এবার যারা মন্ত্রী তারা দলের পদ পাননি, আবার দলের পদধারীরা মন্ত্রী হতে পারবেন না বলে শোনা যায়। তাহলে কি দল ও সরকার আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে?
আব্দুর রহমান: দল সরকার থেকে আলাদা, এই জায়গাটায় আমরা ভুল করছি। দল সরকারের সম্পূরক শক্তি। এক্ষেত্রে শুধু দায়িত্ব পৃথক করা হয়েছে। একজনকে দুটি দায়িত্বে রাখা হলে দায়িত্ব পালনে সমানভাবে মনযোগী নাও হতে পারেন। যাতে যে যার কাজে বেশি মনযোগী হতে পারেন, তাই দ্বৈত দায়িত্বে না রাখার কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে। সংগঠনের প্রতি আন্তরিকতা ও কমিন্টমেন্ট থাকলে মন্ত্রী না হয়েও তৃণমূলে সাংগঠনিক কাজ করা যায়। গাড়িতে পতাকা থাকলে দলের কাজ ভালভাবে করা যায়, এটা আমি বিশ্বাস করি না।
বাংলা ট্রিবিউন:আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবারের সম্মেলনে তার বক্তব্যে আগামী নির্বাচনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন-এটা কি আগাম নির্বাচনের ইঙ্গিত?
আব্দুর রহমান: এটা আগামী নির্বাচনের বার্তা নয়। আগাম নির্বাচন হবার কোনও যৌক্তিক কারণ নাই। নির্ধারিত সময়ে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন হবে। বিজয় আনতে হলে আগে-ভাগেই কাজ শুরু করতে হবে। প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে, যাতে এগিয়ে থাকা যায়। তাই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আওয়াজ তুলেছেন। পাশাপাশি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে। তাই সবাইকে সজাগ-সতর্ক রাখার লক্ষ্য থেকে নির্বাচনের আওয়াজ তোলা হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউন: সংগঠনে তারুণ্যের প্রভাব দেখা গেছে এবার। কিন্তু অনেক জেলায় এখনও প্রবীণরাই নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেসব জায়গায় কি পরিবর্তন আনা হবে?
আব্দুর রহমান: অনেক যোগ্য নেতৃত্ব বিভিন্ন স্তরের কাঠামোতে অপেক্ষমান। তাদের সুযোগ করে দেওয়া উচিত। সংগঠনের সকল স্তরে এ সুযোগ করে দেওয়া হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: নেতা হিসেবে বেশি স্বাচ্ছ্ন্দবোধ করেন, না মন্ত্রী হিসেবে?
আব্দুর রহমান: আমি আমার দলের প্রধান, সরকার প্রধান শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হলেই বেশি কমফোর্ড ফিল করি। নেতা হয়ে মন্ত্রী হয়ে নয়।
বাংলা ট্রিবিউন:এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু?
আব্দুর রহমান: এই মুহূর্তে নির্বাচন হলেও আওয়ামী লীগের জয়ী হওয়ার মতো জনপ্রিয়তা আছে।
বাংলা ট্রিবিউন: নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে কী করা জরুরি বলে মনে করেন?
আব্দুর রহমান: আওয়ামী লীগ একটি জনগণ নির্ভর দল। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্যে আওয়ামী লীগকে জনগণের আস্থা, ভালবাসা অর্জন করতেই হবে। এ দুটি পেলেই জনগণ পুনরায় আওয়ামী লীগকেই ম্যান্ডেট দেবে। এজন্যে জনগণের কাছে যাওয়া ছাড়া বিকল্প চিন্তা নাই।
বাংলা ট্রিবিউন: দুই দফায় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আপনার মূল্যায়ন কি?
আব্দুর রহমান: আগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার দায়িত্ব পালনে আমি কর্মী হিসেবে খুশী।
বাংলা ট্রিবিউন: নতুন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা কী?
আব্দুর রহমান:নতুন সাধারণ সম্পাদকের কাছে আমার প্রত্যাশা, সবাইকে সমন্বয় করে সংগঠনের জন্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করব এবং আমরা সে কর্মপরিকল্পনার অংশীদার হতে পারব। চূড়ান্ত বিচারে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করব।
/এপিএইচ/এইচকে/