বাংলা ট্রিবিউনকে সাবের হোসেন চৌধুরী

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি

সাবের হোসেন চৌধুরীবাংলাদেশকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত করার স্বপ্ন দেখেন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি।  তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের কোনও দেশের সরকারেরই তামাক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব থাকা উচিত নয়। সোমবার সকালে তার নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রাজধানীর কাকরাইলের এইচ আর ভবনে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, তামাক খাত থেকে রাজস্ব আসে ঠিকই, কিন্তু তামাকজনিত ক্ষতি ঠেকাতে সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ ও আদায়কৃত রাজস্বের পরিমাণের পার্থক্য দেখতে হবে।
জানতে চাইলে সাবের চৌধুরী বলেন, এই মুহূর্তে আমার মাথায়  আইপিইউ উদ্যোগে আয়োজিত স্পিকার্স সামিটের সফল বাস্তবায়ন ছাড়া আর কিছু নেই। অন্য কিছু কাজও করে না। আমি আইপিইউ’র সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো শীর্ষক সাউথ এশিয়ান স্পিকার’স সামিট ২০১৬ আয়োজন করেছি। এটি ভারতেও করা যেত। অন্য যেকোনও দেশেই করা যেত। কিন্তু এ ধরনের একটি সামিট করতে পারলে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়বে—এমন ধারণা থেকেই এর আয়োজনে সম্মত হয়েছি।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আগামী শনি ও রবিবার ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এটি অনুষ্ঠিত হবে। সমাপনী অধিবেশনে বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাবের চৌধুরী বলেন, আইপিইউতে বিশ্বের ১৬৮টি দেশের সংসদের ৪৫ হাজার এমপি রয়েছেন। বিশ্বের সাড়ে ৬শ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আইপিইউ ও এর মেম্বার পার্লামেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসডিজি -১৬ তারই ফসল, যেখানে টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন, সকলের অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণ এবং অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

রাজনীতির বাইরেও সাবের হোসেন চৌধুরী একজন ক্রীড়ামোদী মানুষ। খেলাধুলা নিয়ে রয়েছে তার বিশাল স্বপ্ন। তিনি স্বপ্ন দেখেন ক্রিকেটে বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে সেদিন বেশি দুরে নয়। খেলাধুলাসহ তামাকবিরোধী মঞ্চেরও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন সাবের হোসেন চৌধুরী। তামাক সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী তামাক এখন এক মহামারির নাম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ মোট ৮টি দেশে এক তৃতীয়াংশ (৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ) তামাক ব্যবহারকারী বসবাস করে, যার সংখ্যা প্রায় ৩৮৪ মিলিয়ন। এ সব দেশগুলোয় তামাক ব্যবহারজনিত স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ।

পরিসংখ্যান মতে, শুধু বাংলাদেশ ও ভারতে তামাক ব্যবহারের কারণে বছরে ১১ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যুর পরিমাণ বছরে ৮০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে এবং এই মৃত্যু টোল-এর ৮০ ভাগই বহন করতে হবে বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) যে ১৬৯টি টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে তামাকের ভয়াবহতা বিবেচনায় ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল-এফসিটিসি বাস্তবায়ন অন্যতম। সুতরাং এফসিটিসি বাস্তবায়ন এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনও বিষয় নয়। উন্নয়নের মূল স্রোতধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসডিজি অর্জন করতে চাইলে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশের সরকারগুলোকে এফসিটিসি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

সাবের চৌধুরী বলেন, এফসিটিসিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে তা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। তামাকের ভয়াবহতা বিবেচনায় ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল-এফসিটিসি বাস্তবায়ন অন্যতম। সুতরাং এফসিটিসি বাস্তবায়ন এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনও বিষয় নয়। উন্নয়নের মূল স্রোতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসডিজি অর্জন করতে চাইলে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার দেশের সরকারগুলোকে এফসিটিসি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

স্পিকার্স সামিট সম্পর্কে সাবের চৌধুরী জানান, এবারের সম্মেলনে এসডিজি বাস্তবায়নে আইনগত বিষয়ের খুঁটিনাটি দিক নিয়েও আলাপ আলোচনা হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে আইনগত জটিলতা থাকলে তা নিরসনের উদ্যোগ বা পথ বের করা হবে। সে ক্ষেত্রে স্পিকার্সদের ভূমিকা অনন্য সাধারণ বলেও জানান তিনি। আমাদের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অঙ্গীকারবদ্ধ। জাতীয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার পর্যায়ক্রমে এ সব লক্ষ্যগুলো পূরণ করবে বলেও জানান সাবের হোসেন চৌধুরী।

সাবের হোসেন চৌধুরী ১৯৬১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি প্রথমবার রাজধানীর মতিঝিল-সবুজবাগ এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য পদে জয়লাভ করেন। ওইবার নির্বচনে বিজয়ী হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সাবের হোসেন চৌধুরীকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি একইসঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সাবের হোসেন চৌধুরী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। সাবের হোসেন চৌধুরীর সহধর্মিনী রেহানা চৌধুরী একজন গৃহিনী হলেও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি দুই সন্তানের জনক। ছেলে হামদান হোসেন চৌধুরী ও মেয়ে রাইমা চৌধুরী।

/এমএনএইচ/