একান্ত সাক্ষাৎকারে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

কাউন্সিলে দেশ ও জনগণের পক্ষের নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালনের উৎসব আমাদের দোরগোড়ায়। ঠিক তার আগে মুক্তিযুদ্ধকে যারা নতুনভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন তাদেরকে নির্মূল করতে পারলে দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে,উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিষয়টি আওয়ামী লীগের কাছে দেশের আপামর জনসাধারণের প্রত্যাশা বলেও মন্তব্য করেন ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতা।
দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করে দেশে আবার নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। এর জন্য বিএনপি মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার পথ বেছে নিয়েছে।তবে তাদের এই অপচেষ্টা সফল হবে না জানিয়ে সম্ভাবনাময় এ নেতা বলেন, এই কৌশল বিএনপির সর্বশেষ পতনের চূড়ান্ত অধ্যায়।
তিনি বলেন, বিএনপির কাছে মানুষের কোনও প্রত্যাশা নাই। কিছু লুটেরা-দুর্নীতিবাজ, দেশবিরোধী মানুষ বিএনপির কাছে প্রত্যাশা করে থাকে।
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপির রাজনীতি, আওয়ামী লীগের সম্মেলন, সরকারের চ্যালেঞ্জ ও প্রাসঙ্গিক বেশকিছু বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন আওয়ামী লীগের এ সাংগঠনিক সম্পাদক।
তিনি বলেন, বিএনপি রাজনীতিতে কতটুকু দেউলিয়া হয়ে গেছে তার প্রমাণ মেলে বাংলাদেশের সৃষ্টিকে নিয়ে তাদের বিতর্কিত বক্তব্যের মধ্যদিয়ে। এই নেতা বলেন, আমি মনে করি, বিএনপির রাজনীতিতে যারা বিশ্বাস করেন, বিএনপির যেসব নেতা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাস করেন, খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কথা বলে তাদের সবাইকে ব্ল্যাকমেইলিং করছেন। আমি মনে করি, এ সব নেতার উচিত খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব থেকে বের হয়ে আসা। 

আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন প্রসঙ্গে খালিদ মাহমুদ বলেন, এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের সৃষ্টি হয়েছে দেশের মানুষের অগ্রগতি এবং উন্নয়নের জন্যে। তাই আওয়ামী লীগের কাউন্সিল রাজনীতির জন্যে একটি বড় খবর।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে সবসময় জনগণের পক্ষে দেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত বেরিয়ে এসেছে। এবারও কাউন্সিলে জনগণের পক্ষে দেশের পক্ষে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসবে। মূলকথা হল, যে ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজন সে ধরনের নেতৃত্ব এ কাউন্সিলের মধ্যদিয়ে বেরিয়ে আসবে। এ কাউন্সিল আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সমৃদ্ধি অর্জন এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

খালিদ মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক ধরে। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের সবচেয়ে বৃহৎ ও শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে পরিচয় লাভ করেছে।তবে এটা সত্য যে, অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ এখানে এসেছে।  শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের প্রতি নেতা-কর্মীদের সম্পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস আছে। উনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন যে, নেতৃত্ব উপহার দেবেন, সেই নেতৃত্ব দিয়েই আওয়ামী লীগ আগামীর পথ পাড়ি দেবে।

বিএনপির রাজনীতি সম্পর্কে দলের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এ নেতা বলেন, বিএনপি এখন যেভাবে ইতিহাস বিকৃতি,সংবিধান,মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা শুরু করেছে তাতে দলটি রাজনীতি থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়েছে।তাদের দাবি-দাওয়ার প্রতি জনসমর্থন নেই।বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই নেতা বলেন,মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি মানা তো দূরের কথা, তারা তো মধ্যবর্তী রাজনীতির মধ্যেও নেই। তাই তাদের দাবির বাস্তবায়ন ঘটার কোনও সম্ভবনা দেখছি না।

আওয়ামী লীগ ও সরকার সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে এই নেতা বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ভেতর দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল ও সরকার সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে। এটা আওয়ামী লীগের জন্যে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।অবরোধ হরতালের নামে দেশে স্বাধীনতাবিরোধীদের ৯৩ দিনের যে রক্তক্ষয়ী অবস্থা,আগুন সন্ত্রাস,সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড সেটাকে মোকাবেলা করে দেশকে শান্তির ধারায় ফিরিয়ে আনাও সরকার ও দলের বড় সফলতা। এ ছাড়া যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে, সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার যে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল তাদেরকে মোকাবেলা করার চ্যালেঞ্জে আওয়ামী লীগ সফল হয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে এ সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পদ্মাসেতুসহ বিভিন্ন মেগাপ্রজেক্ট গ্রহণের মধ্যদিয়ে পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা-শিক্ষা,গড় আয়ু বৃদ্ধি,দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন-এগুলো সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল।প্রতিটি চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, সরকার শক্তিশালী জায়গায় রয়েছে।এখন সরকারের কাছে মানুষের যে প্রত্যাশা সেটা হল- মানবতাবিরোধী অপরাধীদের যে বিচারকার্য্য চলছে তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা।চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখা।

 

পিএইচসি/এমএসএম/আপ-এসএম