বাংলাদেশ বেতারের সদ্যপ্রয়াত মহাপরিচালক আহম্মদ কামরুজ্জামানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (২৪ জুলাই) নিজ জেলা যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় বাসভবনের সামনে বাদ জোহর জানাজার পর স্থানীয় কারবালা মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে তার প্রথম নামাজে জানাজা শনিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টায় বাংলাদেশ বেতার সদর দফতরে অনুষ্ঠিত হয়। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বেতারের সর্বস্তরের প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এতে অংশ নেন। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ক্যানসারে চিকিৎসাধীন আহম্মদ কামরুজ্জামান শনিবার ভোরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার রাতে তার মরদেহ ঢাকা এলে সরাসরি আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হয়। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, জানাজার আগে মন্ত্রীর দফতরের পরিচালক-জনসংযোগ ও সহকারী একান্ত সচিব তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের পক্ষে প্রয়াতের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সচিব মকবুল হোসেন, বেতারের দায়িত্বরত মহাপরিচালক খাদিজা বেগমের পক্ষে বেতার ঢাকা কেন্দ্রের পরিচালক কামাল আহমেদ, বিসিএস ইনফরমেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স ম গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নসরুল্লাহ মো. ইরফান, উপ-মহাপরিচালক মো. ছালাহউদ্দিন, পরিচালক সায়েদ মোস্তফা কামাল, বার্তা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ, পরিচালক মুহা. শরীফুল কাদের, পরিচালক-মনিটরিং শফিকুল আলম, বার্তা নিয়ন্ত্রক মোছা. তানিয়া নাজনীন, প্রধান প্রকৌশলী মাসুদ ভূঁইয়া, সিনিয়র প্রকৌশলী মাহবুব রহমান, স্টেশন প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রহমান, প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকীসহ শত শত সহকর্মী আহম্মদ কামরুজ্জামানের জানাজায় অংশ নেন। সংক্ষিপ্ত কথনে তারা প্রয়াত মহাপরিচালকের সুআচরণ ও কর্মনিষ্ঠার স্মৃতিচারণ করেন এবং তার জন্য প্রার্থনা করেন।
এরপর অতিরিক্ত পরিচালক আল আমিন খান মরদেহ নিয়ে প্রয়াতের নিজ বাড়ি যশোরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সেখানেই রবিবার তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের ১১তম ইনটেকের এক্স-ক্যাডেট আহম্মদ কামরুজ্জামানের জন্ম ১৯৬৩ সালের ১ জানুয়ারি যশোরে। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক কামরুজ্জামান ১৯৮৭ সালে সপ্তম বিসিএস তথ্য ক্যাডারে (বেতার প্রকৌশল) মেধা তালিকায় প্রথম হয়ে বাংলাদেশ বেতারে যোগদান করেন।
২০১৪ সালে তিনি প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পান এবং ২০২১ সাল থেকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে ২৩ জুলাই না ফেরার দেশে চলে যান কামরুজ্জামান। বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষী শ্রোতাদের জন্য বাংলাদেশ বেতার অ্যাপ চালু করাসহ ৩৫ বছরের কর্মজীবনে অনেক উদ্ভাবনী সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে গেছেন তিনি।